গৃহস্থের বাড়ির জলের রিজার্ভার থেকে উদ্ধার বিষধর কেউটে

গৃহস্থের বাড়ির জলের রিজার্ভার থেকে উদ্ধার বিষধর কেউটে

গৃহস্থের বাড়ির জলের রিজার্ভার থেকে উদ্ধার হলো বিষধর কেউটে। এক্ষেত্রেও বন্যপ্রাণী রক্ষায় ফের নজির তৈরি করলো হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সাথী সংগঠন ‘ডট ফাউন্ডেশন’।সাপটিকে পিটিয়ে না মেরে পরিবেশ কর্মীদের খবর দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন গাজীপুরের এক বাসিন্দা। জানা গেছে, এদিন বাড়ির জলের রিজার্ভার থেকে একটি কেউটে সাপের বিষধর বাচ্চা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার আমতা-২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত গাজীপুর বাজারে এক গৃহস্থের বাড়িতে। তবে সাপটিকে পিটিয়ে না মেরে পরিবেশ কর্মীদের খবর দিয়ে সেটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় এগিয়ে আসেন হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সহযোগী সংগঠন ‘ডট ফাউন্ডেশন’। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে গাজীপুর বাজারের এক বাসিন্দা তাঁর বাড়ির জলের রিজার্ভারের ভিতর একটি কেউটে সাপের বাচ্চা দেখতে পান। বিষধর সাপ দেখে আতঙ্ক ছড়ালেও পরিবারের সদস্যরা চরম ধৈর্য দেখান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গৃহকর্তা তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করেন ডট ফাউন্ডেশনের কৌশিস অধিকারীর সঙ্গে। উনি ডট ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক সহযোগী প্রীতম ভট্টাচার্যর সাথে যোগাযোগ করেন। প্রীতম বাবু ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে কালবিলম্ব না করে খবর দেন বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী কুন্তল মুখার্জিকে। খবর পাওয়া মাত্রই কুন্তল বাবু ও রিমা মুখার্জি বন দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেন এবং সর্প ও বিষ গবেষক শুভেন্দু গাঙ্গুলিকে সাথে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর অত্যন্ত সতর্কতা ও দক্ষতার সাথে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁরা। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া কেউটে সাপের বাচ্চাটির বয়স আনুমানিক ১ বছর এবং এটি দৈর্ঘ্যে ১.৫ ফুটের কিছুটা বেশি। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি শুভেন্দু বাবু উপস্থিত এলাকাবাসীকে সাপ ও বন্যপ্রাণী বিষয়ে সচেতন করেন এবং সাপ নিয়ে অহেতুক ভীতি ও কুসংস্কার দূর করার পরামর্শ দেন। অবশেষে বন দপ্তরের নিয়ম মেনে জনবসতি থেকে দূরে সাপের স্বাভাবিক বাসস্থানে (প্রাকৃতিক পরিবেশে) সেটিকে নিরাপদে মুক্ত করা হয়।