মকরমপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, সরকারি গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ

মকরমপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, সরকারি গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ

রাজ্যজুড়ে সরকারি জমি ও রাস্তার উপর অবৈধ দখলদারি এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে বোলপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মকরমপুর এলাকায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনের উপস্থিতিতে বুলডোজার ব্যবহার করে একাধিক অবৈধ দোকান, অস্থায়ী কাঠামো এবং নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। তবে এই অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছিল। সেই সমস্ত অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রশাসনের আধিকারিক, পৌরসভার কর্মী এবং পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়। এরপর শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।
অভিযান শুরুর পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, উচ্ছেদের আগে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন সংক্রান্ত কোনও স্পষ্ট বার্তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। ফলে বহু পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি সরকারি আধিকারিকদের লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন এবং তাঁদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে একটি সরকারি গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও হেনস্তা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বোলপুর থানার পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর গোটা মকরমপুর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবৈধ দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে প্রশাসনের উচিত ছিল মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা। তাঁদের দাবি, হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বহু মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষ আগামী দিনে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।