সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং- কলকাতা হাইকোর্টে সাময়িক ভাবে স্বস্তি মিলল ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের। তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিধায়ক। বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার শুনানি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, ‘আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও রকম পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে একই সঙ্গে আদালত এটাও নির্দেশ দিয়েছে যে, বিধায়কের বিরুদ্ধে যে তদন্ত প্রক্রিয়া চলছিল, তা বহাল থাকবে। শুধু তাই নয়, তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে বিধায়ক কে। যদি কোনও রকম সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকেন বিধায়ক, তা হলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে রাজ্য। আদালতের নির্দেশে এমনটাও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পাল্টা যুক্তি দিয়ে আদালতে পরেশরাম দাস দাবী করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিধায়কের বিরুদ্ধে যে সব এফআইআর দায়ের হয়েছে সেগুলি ২০২৬ এর ১৬ মে-র। তত দিনে রাজ্য রাজনৈতিক পালাবদল হয়ে গিয়েছে। সেই এফআইআরগুলির মধ্যে একটি গত এপ্রিলের একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে করা এবং অন্যান্য এফআইআর গুলো ২০২১ সালের ঘটনার প্রেক্ষিতে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, বিধায়ক পরেশরামের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরগুলি দায়ের হয়েছে, সেগুলি আইনত এখনও অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সামগ্রিক দিক বিবেচনা করেই আপাতত বিধায়ককে স্বস্তি দিল হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য,ইতিমধ্যেই পুরানো অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উত্তম দাস,পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ অরিত্র বোস সহ একাধিক জন প্রতিনিধিকে। উত্তম দাস ইতিমধ্যে জামিন পেলেও অরিত্র বোস এখনও জেলে। শুধু তাই নয়,এইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে ক্যানিংয়ে। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিধায়ক বলেন, ‘আদালতের উপর মানুষের যে ভরসা এবং বিশ্বাস এখনো আছে তা আরো একবার প্রমাণিত হলো। আমি যে পুরোপুরি নির্দোষ তা বুঝেই রায় দিয়েছে আদালত।’