"ভোটে জিতে ডিগ্রি কলেজ, অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও নিকাশির কাজে জোর দেব। ডোমজুড়ে এবার মার্জিন বাড়ানোর লড়াই", বলছেন তৃণমূল প্রার্থী

"ভোটে জিতে ডিগ্রি কলেজ, অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও নিকাশির কাজে জোর দেব। ডোমজুড়ে এবার মার্জিন বাড়ানোর লড়াই", বলছেন তৃণমূল প্রার্থী

সুমন আদক, হাওড়া: ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে এবার হাওড়ার ডোমজুড় কেন্দ্রে গতবারের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষকে প্রার্থী করেনি দল। তাঁর পরিবর্তে হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা ডোমজুড় ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তাপস মাইতিকে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে। নাম ঘোষণার পর থেকেই তাপস বাবু তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রতিটি এলাকা জুড়েই বাড়ি বাড়ি প্রচার, রোড শো, জনসংযোগ পদযাত্রা থেকে শুরু করে পথসভা বা জনসভা করছেন। তাপস মাইতি বলেন, "তৃণমূল কর্মীদের আবেগ ও স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের যে সমর্থন লক্ষ্য করছি তাতে একথা বলা যেতেই পারে যে ডোমজুড়ে তৃণমূলের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। ডোমজুড়ে মানুষ এবার ইতিহাস তৈরি করবে। 'অ্যাডজুডিকেশন' এর নামে বহু বৈধ সাধারণ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এসআইআর এর লাইনে মানুষকে দাঁড় করিয়ে হয়রানি করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে এতে মানুষ ক্ষুব্ধ। এই বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে উৎখাত করার জন্য মানুষ তৈরি হয়ে আছেন। আগামী দিনে মানুষের আশীর্বাদ পেয়ে আমরা জিতলে আমাদের প্রথম লক্ষ্য, ডোমজুড়ে একটি অত্যাধুনিক মানের হাসপাতাল তৈরি করা। এছাড়া আমার লক্ষ্য, ডোমজুড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি ডিগ্রি কলেজ তৈরি করা। এছাড়া জাপানিগেট থেকে হাওড়া ড্রেনেজ পর্যন্ত নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে মানুষের সুবিধা হয়। এটাই আমাদের টিম ডোমজুড়ের লক্ষ্য।" তিনি আরও বলেন, "বিগত ৫ বছরে ডোমজুড়ে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান উল্লেখযোগ্য কাজ হল এলাকার নিকাশি ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নতিতে সেচখালের সংস্কার। চকপাড়া থেকে ডোমজুড় পর্যন্ত নিকাশির কাজ হয়েছে। কেএমডিএ’র সহপোগিতায় ডোমজুড়ের নিকাশি নালার জল বের করতে একাধিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরফলে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিষেবারও অনেক উন্নতি হয়েছে। ডোমজুড় বিধানসভা এলাকায় ৫টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এলাকার রাস্তাঘাটেরও অনেক উন্নতি হয়েছে। রাস্তাশ্রী-পথশ্রী প্রকল্পে ছোট বড় মিলিয়ে মোট প্রায় ৭৬ কিমি. দৈর্ঘ্যর ৫০টি রাস্তা তৈরি হয়েছে। ডোমজুড়ের জগদীশপুরে হোসিয়ারি পার্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে একাধিক শিল্প গড়ে উঠেছে। বহু ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হয়েছে। ডোমজুড়ের কিছু পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে।
তবে, নিকাশি সংস্কারের কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। ডোমজুড়ে সুষ্ঠু নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিপিআর তৈরি করে কাজ হচ্ছে। শীঘ্রই তা শেষ করা হবে। এছাড়াও ডোমজুড় বিধানসভার সমস্ত পঞ্চায়েতে বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহ শুরু করে আধুনিক বর্জ্য নিস্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ডোমজুড়ের বাঁকড়া এলাকায় যানজটের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। এখানে হোসিয়ারি শিল্পের কাঁচামালের যে বাজার রয়েছে তারও আমূল সংস্কার করা হবে। ডোমজুড় বিধানসভার ১৫টি পঞ্চায়েতেরই সৌন্দর্যায়ন করা হবে। প্রতিটি রাস্তায় পথবাতি লাগানো হবে। সিসিটিভিও বসানো হবে। ডোমজুড়ের প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে।