এখন কলকাতার ১০১টি ওয়ার্ড বিজেপি'র দখলে

এখন কলকাতার ১০১টি ওয়ার্ড বিজেপি'র দখলে
বরুণ মণ্ডল : কলকাতার উত্তরে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাহনগরের কোল থেকে দক্ষিণে গড়িয়া বা বোড়াল বা জোকার কোল পর্যন্ত এবং পূর্বে পঞ্চসায়ার বা অজয়নগর বা মাদুরদহ বা ধাপার কোল থেকে পশ্চিমে ১৪১ নাম ওয়ার্ডের হুগলি নদী পর্যন্ত -  সর্বত্রই এখন গেরুয়া আবিরে মোড়া।   রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে'র ফলাফলের হিসেব বলছে কলকাতা পৌরসংস্থার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০১টি ওয়ার্ড গেরুয়া শিবিরের দখলে।  বাকি ৪৩টি ওয়ার্ডে জোড়াফুল শিবির নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।  ২০২৪ - এর অষ্টাদশ লোকসভা সাধারণ নির্বাচনে কলকাতা পৌরসংস্থার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে ছিল ৪৫টিতে।   যদিও ২০২১ - এর ডিসেম্বরে কলকাতা পৌরসংস্থার সাধারণ নির্বাচনে কলকাতার ১৩৪টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস জিতে পৌর বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল।  বাকি ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে কলকাতা উত্তরের ২২, ২৩ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিল পদ্ম শিবির।  কিন্তু ২০২৬ - র বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে,  কলকাতা উত্তর জেলার ৬০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৪টি এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া ব্রিগেড।  কলকাতা দক্ষিণ ও সংযোজিত এলাকা মিলিয়ে বাকি ৮৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৭টিতে জোড়াফুলের তুলনায় পদ্মফুলকে সমর্থন করা ভোটারের সংখ্যা অধিক।
কলকাতা পৌর নিগম আইনানুসারে(১৯৮০) কলকাতা পৌরসংস্থার নবম সাধারণ নির্বাচন সামনের ডিসেম্বর মাসে।  বাকি রয়েছে মাত্র সাত মাস।  এবার ছোটও লাল বাড়ি দখল করবেন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের নেতাদের।   পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার যেসব ওয়ার্ডে কয়েক সহস্র ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস লিড পেত, এবার সেখানে কয়েক সহস্র ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস।  এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড়ো উদ্বেগের কারণ তাদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত নগরপল্লি(বস্তি) এলাকার ফলাফল।  সেখানে মানুষ উন্নয়নের লক্ষ্যে সোজাসুজি পদ্ম প্রতীকে আস্থা রাখছে।   বর্তমানে বহু তৃণমূলী পৌরপ্রতিনিধি আগামী পৌর নির্বাচনে শোচনীয় হারের ভয়ে প্রার্থী হতে রাজি হচ্ছে না।  শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শশী পাঁজা নিজের বড়ো মেয়ে পূজা পাঁজার ৮ নম্বর ওয়ার্ডেই ১,১৫৪ ভোটে পরাজিত।  অথচ ২০২১ - এর ডিসেম্বরে পূজা পাঁজা ৬,০৯১(প্রদত্ত ভোটের ৭৭.৪৭ শতাংশ) ভোটের ব্যবধানে এই ওয়ার্ড থেকে জয় লাভ করে।  শ্যামপুর বিধানসভা ৭, ৮, ৯, ১০,১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২৪ ও ২৬ এই ১১টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ ওয়ার্ডে হারের মুখ দেখেছেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।  ২০২১ - এর বিধানসভা নির্বাচনে এই সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ২২,৫২০ ভোটের ব্যবধানে শ্যামপুকুর জয়লাভ করে।  মোট প্রদত্ত ভোটের ৫৪.১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
লকাতা পৌর এলাকার অন্তর্গত ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১০টিতে এবার তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত।  কলকাতা পৌর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের এই ফলাফলে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরাও বিস্মিত।  তাঁদের বক্তব্য কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় পৌরপ্রতিনিধির গাফিলতি রয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলের নেতৃত্বের চূড়ান্ত খামতি, ঔদ্ধত্য, অহংকারী মনোভাব, দাম্ভিক মনোভাব, মানুষকে মিথ্যা বলা, নীচুতলার কর্মীদের হ্যাঁটা করা।  এর ফল আগামী পৌর নির্বাচনে পড়বে বলে করছেন নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা।  শ্যামপুকুরের পাশাপাশি কাশীপুর-বেলগাছিয়া, মানিকতলা, জোড়াসাঁকো কলকাতা উত্তরের এই চার বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ছাড়া হয়েছে।   কলকাতা দক্ষিণের ভবানীপুর, রাসবিহারী, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব এবং বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রেও তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে।  দুর্নীতিতে ভরা দলের নেতৃত্ব স্থানীয়দের ঔদ্ধত্য ও দাম্ভিক মনোভাব মানুষ মানেননি। বর্তমানে কলকাতা পৌরসংস্থার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৮টি ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে অথচ সেখানেকার ১০টি বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপি'র এবং ছ'টি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে।  এখান থেকেই প্রশ্ন উঠেছে,  আগামী ডিসেম্বরে কলকাতা পৌরসংস্থার নবম সাধারণ নির্বাচনে কলকাতা পৌরসংস্থা কী তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকবে?  না কী বিজেপি'র দখলে যাবে?