থানার সামনেই তৃণমূল নেতাকে ঝাঁটা-জুতো দেখালেন মানুষজন

থানার সামনেই তৃণমূল নেতাকে ঝাঁটা-জুতো দেখালেন মানুষজন
সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং -  সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্রময় দেশ। কিছুদিন আগেই যে নেতা কে সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ পাহারা দিতেন,সেই নেতাকেই আবার জনতার ক্ষোভ থেকে আগলে রাখলেন সেই পুলিশ।এমন ঘটনার সাক্ষী থাকলে সমগ্র ক্যানিংবাসী। 
বিগত ২০২১ কিংবা ২০২৩ এ বিধানসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বিরোধীদের একঘরে করে রেখেছিল শাসক তৃণমূল।অভিযোগ, চলতো লাগাতর সন্ত্রাস। সেই ধারাবাহিকতা প্রায় পনেরো বছর বজায় ছিল।২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ঘোষনা হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের ছোট,বড়,মাঝারি সহ সমস্ত স্তরের নেতাদের বক্তব্য ছিল ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হবে। ওই দিন দুপুর বারোটার পর বিজেপি সহ বিরোধীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।বিরোধীরাও বেশকিছু মঞ্চে গরম গরম বক্তব্য দিয়েছিলেন।ফল ঘোষনা হতেই শাসকদলের নেতা কর্মীরা চুপসে যায়। দাম্ভিকতা হারিয়ে ফেলে।ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বিজেপি সরকার।২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন এবং বিগত ২০২১,২০২৩ নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস যে সন্ত্রাস চালিয়েছিল,সেই সমস্ত কেস ধামাচাপা ছিল। সরকার পরিবর্তন হতেই পুলিশ প্রশাসন হাত খুলে কাজ করতে শুরু করে।বিভিন্নস্তরের তৃণমূল নেতানেত্রীদের নামে থানায় থানায় এফআইআর হয়।ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। গত সোমবার কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকা থেকে ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা ক্যানিং ১ ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি অরিত্র বোস কে গ্রেফতার করে ক্যানিং থানার পুলিশ। তার নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রের খবর। মঙ্গলবার তৃণমূল নেতা কে আদালতে তোলার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় শারীরিক পরীক্ষার জন্য।সেই সময় ক্যানিং থানার সামনে শতাধিক মহিলা পুরুষ জড়ো হয়। তাদের হাতে ছিল ঝাঁটা-জুতো।এঘটনায় পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়,তারজন্য থানা এবং হাসপাতাল চত্বরে বিশাল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েত করা হয়। যদিও বিগত দিনে অত্যাচারিতরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল নেতাকে ঝাঁটা-জুতো দেখায় এবং চোর চোর স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। 
সঙ্গীতা মন্ডল নামে অত্যচারিত এক মহিলা জানিয়েছেন, ‘দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে ক্যানিং পশ্চিমে তান্ডব চালিয়েছে তৃণমূলের গুন্ডারা।বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে অত্যাচার করেছে।মা-বোনেরা রেহাই পায়নি হার্মাদ বাহিনীর হাত থেকে। পুলিশ পাহারায় থাকতো ওই সমস্ত গুন্ডাদের নিরাপত্তার জন্য।সরকার পরিবর্তন হতেই সেই সমস্ত গুন্ডাদের পুলিশ ধরে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জনসমক্ষে ছেড়ে দিক ওই সমস্ত জানোয়ারদের কে। সাধারণ মানুষ গণধোলাই দিয়ে শায়েস্তা করে দেবে। আদালতে নিয়ে যেতে হবে না। ’
অন্যদিকে মোহন দাস নামে এক বিজেপি কর্মী সমর্থক জানিয়েছেন, ‘২০২১ সালে আমার দোকন ঘর ভাঙচুর করে তৃণমূলের হার্মাদরা। দোকান থেকে নগদ টাকা নিয়ে যায়। জেরক্স মেশিন,কম্পিউটার সহ সমস্ত জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার করে দেয়।২০২১ এর ৭ মে ক্যানিং থানায় তথ্য প্রমাণ দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। কোন সুরাহা হয়নি। এবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। বিগত দিনের হার্মাদদের হাতে যেভাবে অত্যাচারিত হয়ে যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছিল,এবার তার সুরাহ হবে।হার্মাদের কঠোর শাস্তি হফে বলে আশাবাদী।’
9