টেন্ডারের টাকা আগেই মিটেছে, ১০ মাস পর এল মাল! ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতে স্টেশনারি কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়

টেন্ডারের টাকা আগেই মিটেছে, ১০ মাস পর এল মাল! ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতে স্টেশনারি কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিনিধি, ছাতনা: বাঁকুড়া জেলার ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতে স্টেশনারি সামগ্রী কেনাকে কেন্দ্র করে উঠল দুর্নীতির অভিযোগ। প্রায় দেড় লক্ষ টাকার টেন্ডার এবং সেই টেন্ডারের পেমেন্ট কয়েক মাস আগেই মিটে যাওয়ার পরও হঠাৎ করে সামগ্রী পঞ্চায়েতে ঢোকানোকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতে স্টেশনারি আইটেম কেনার জন্য ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৩৭ টাকার টেন্ডার করা হয়। অভিযোগ, ওই টেন্ডারের পেমেন্টও ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে করে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরও পঞ্চায়েতে সেই সামগ্রী এসে পৌঁছয়নি বলে দাবি।
বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁরা পঞ্চায়েতের কাছে ওই টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাইলে পঞ্চায়েতের তরফে জানানো হয়, “এখনও পর্যন্ত ওই মাল পঞ্চায়েতে আসেনি, এই বিষয়ে প্রধানই ভালো বলতে পারবেন।”
তবে অভিযোগ, আজ দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ বিজেপি কর্মীরা দেখতে পান একটি টোটো করে কিছু স্টেশনারি সামগ্রী পঞ্চায়েতে আনা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এগুলি নাকি ১০ জুলাই ২০২৫-এর ওই টেন্ডারের মাল।
এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন। বিজেপি কর্মীদের দাবি, যে পরিমাণ সামগ্রী পঞ্চায়েতে ঢুকেছে, তার আনুমানিক মূল্য মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিয়মিত পঞ্চায়েতে আসেন না। এ বিষয়ে প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও সদুত্তর দেননি বলেও দাবি বিজেপি কর্মীদের।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি কর্মী পার্থ কুম্ভকার এবং বাঁকুড়া জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মুখার্জি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিষয়টির তদন্তের দাবি জানান।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।