বিজেপির জয়ে কাটোয়ার বহু প্রতীক্ষিত রেলওয়ে উড়ালপুল ঘিরে প্রত্যাশার পারদ চড়ছে
দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: ‘পিএম সিএম একসাথে, উন্নয়ন হবে দিনেরাতে’..বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া এমনতর স্লোগানে ভর করেই প্রত্যাশার পারদ চড়ছে রাজ্যবাসীর।একইরকম মনোভাব পোষণ করছে অজয়-ভাগীরথী নদী তীরবর্তী কাটোয়ার লক্ষাধিক মানুষ।হাওড়ার দিক থেকে কাটোয়া জংশন রেলস্টেশনে ঢোকার মুখে ব্যস্ততম লেভেলক্রসিংয়ে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ জানজটের সমস্যা এড়ানোর জন্য একটি উড়ালপুল তৈরির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব এলাকাবাসী। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরের বুকে এই রেলওয়ে উড়ালপুল তৈরির দাবিকে হাতিয়ার করে বছর বছর রাজনৈতিক খেলা চলতে থাকে।ভোট এলেই কাটোয়ার রেলওয়ে উড়ালপুলের দাবিটি রাজনৈতিক দলগুলির কাছে অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে।এবারও যার অন্যথা ছিল না।তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস সকলেই কাটোয়ার রেলওয়ে উড়ালপুলের গণদাবিটিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারে সরব ছিল।নির্বাচনী প্রচারে নেমে কাটোয়ায় সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির তালিকায় বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষের মুখেও একাধিকবার এই রেলওয়ে উড়ালপুল তৈরির প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল।এর আগে এই দাবিটি একাধিকবার রেলমন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে।এমনকি, বছরখানেক আগে বর্ধমান পূ্র্ব লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ(তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত) ডাঃ শর্মিলা সরকার রেলমন্ত্রী ডঃ অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছেও এই সম্পর্কিত একটি দাবিপত্র পেশ করেছিলেন।কিন্তু, তারপর নদনদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেলেও কাটোয়ার রেলওয়ে উড়ালপুলের দাবিটি পূরণে এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।তবে, এবারে রাজ্যে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নকে সামনে রেখে যে স্লোগান দিয়ে গিয়েছেন তা নিয়ে আমজনতা আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন।এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয় কাটোয়াবাসীও।এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কাটোয়া কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষ জয়লাভ করেছেন।তিনি কাটোয়ার ছয়বারের বিধায়ক তথা বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।বর্ষীয়ান এই বিধায়কের পরাজয়কে এককথায় এলাকার রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ইন্দ্রপতন’ বলছেন কাটোয়াবাসী।অন্যদিকে, কাটোয়ায় এই প্রথমবার বিজেপি প্রার্থী জয়লাভ করতেই নবনির্বাচিত বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষকে কেন্দ্র করে আমজনতার মধ্যে প্রত্যাশার পারদ চড়ছে।তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, কেন্দ্রে ও রাজ্যে দু’জায়গাতেই বিজেপি সরকার থাকায় এবারে কাটোয়ার বহু প্রতীক্ষিত রেলওয়ে উড়ালপুলটি বাস্তবের মুখ দেখবে।পূর্ব বর্ধমান জেলার সীমান্তবর্তী কাটোয়া শহরের ওপর দিয়ে চলে গিয়েছে দুই বঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ।পূর্ব রেলওয়ের হাওড়া ডিভিশনের অন্তর্ভূক্ত কাটোয়া জংশন স্টেশন থেকে বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার আমোদপুর যাতায়াতের রেলপথ রয়েছে।কাটোয়া জংশন স্টেশনের ওপর দিয়ে দিনরাত অসংখ্য লোকাল, প্যাসেঞ্জার এবং এক্সপ্রেস ট্রেন বিভিন্নদিকে যাতায়াত করে।ফলে দিনরাত অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে কাটোয়া স্টেশনটি।ট্রেন চলাচলের ব্যস্ততার কারণেই কাটোয়া স্টেশনে ঢোকার মুখে লেভেলক্রসিংটিও দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলিতেই বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ এবং এর ফলে ব্যস্ততম লেভেলক্রসিংয়ের দু’দিকে বিশাল জনজট সৃষ্টি হয়।জানজটের সমস্যায় অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।যানবাহন চালকদের কাছে এই রেলগেট তথা লেভেলক্রসিংটি কার্যত নরকযন্ত্রণা ভোগ করার নামান্তর।কৃষ্ণ ঘোষ অবশ্য বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরপরই সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো বার্তায় এলাকার সার্বিক উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন।সেই প্রেক্ষিতে বহু প্রতীক্ষিত এই রেলওয়ে উড়ালপুলের দাবিটি কবে পূরণ হয় সেদিকেই তাকিয়ে কাটোয়াবাসী।
admin