বিশ্ব পরিবেশ দিবসে গাছকে মাতৃরুপে পুজো করে রোপণ করলেন সমাজসেবী যুবক

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে গাছকে মাতৃরুপে পুজো করে রোপণ করলেন সমাজসেবী যুবক
সুভাষ চন্দ্র দাশ,কুলতলি - বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রায় দুশোর অধিক চারাগাছ রোপণ করে সচেতনতার বার্তা দিলেন অজয় বায়েন নামে এক যুবক। শুধু বার্তা দেওয়া নয়। ছিল এক অনন্য অসাধারণ উদ্যোগ। যা সুন্দরবনের বুকে বিরল। 
শুক্রবার ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস।এদিন সকালে সুন্দরবনের কুলতলি থানার অন্তর্গত জালাবেড়িয়া ১ পঞ্চায়েতের কানকাটার মোড়ে আয়োজন করা হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস।গ্রামের মানুষজন ভীড় করেন। সেখানে পুরোহিত ভাষ্কর মুখার্জী কে দিয়ে প্রথমে চারাগাছ কে মাতৃরুপে পুজো করা হয়। দেওয়া হয় ফুল চন্দন এবং ধূপ।এরপর গ্রামের মহিলাদের শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা গ্রাম।উপস্থিত ছিলেন কানাই হালদার,গৌরাঙ্গ মন্ডল,সনৎ সরদার,প্রণব মন্ডল সহ গ্রামবাসীরা। পুজো শেষে গ্রামের রাস্তার পাশে বোপণ করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ। 
কেন এমন উদ্যোগ?এমন প্রশ্নের জবাবে সমাজসেবী অজয় বায়েন জানিয়েছেন, ‘সুন্দরবনের উপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার চলছে। যত্রতত্র বৃক্ষনিধন। এমনকি নদীর গতিপদ আটকে ভরাট করে বাড়িঘর তৈরী,মাছের ভেড়ি তৈরী হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে সুন্দরবনের ঐতিহ্য। এমন সব কার্য্যকলাপ যাতে বন্ধ হয়। এবং সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে বৃক্ষরোপণের মধ্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করে তার জন্য সচেতনতার মধ্যদিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া মা যেমন তার সন্তানকে পরিচর্যা করে সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠা করেন। তেমনই গাছ আমাদের রক্ষাকর্তা মা। সেই মা যাতে সুরক্ষিত থাকে এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে ওঠে,সুন্দরবন রক্ষা পায় তারজন্য আমাদের এই প্রয়াস’। 
অন্যদিকে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে গাছ কে মাতৃরুপে পুজো করে রোপণ প্রসঙ্গে এলাকার মানুষজন  জানিয়েছেন, ‘এমন উদ্যোগ পরিবেশ তথা সুন্দরবনের পক্ষে মহান।অজয় বায়েনদের মতো সকলকেই এমন ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবো। তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্ম যেমন সুরক্ষিত থাকবে,তেমনই সুন্দরবন সবুজ পরিবেশ গড়ে উঠবে।’