বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী

বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী

সুমন আদক, হাওড়া: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেলুড় মঠ দর্শনে আসেন। তিনি শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমা এবং স্বামীজির প্রতি পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। মঠের মূল মন্দির সহ অন্যান্য মন্দির দর্শন করেন তিনি। এদিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী বেলুড় মঠে এসে পৌঁছান। প্রথা মেনেই তাঁকে অভ্যর্থনা জানান মঠের সন্যাসীরা। এরপর তিনি শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের মন্দিরে প্রণাম করেন। এরপর একে একে মঠের ব্রহ্মানন্দ মন্দির, বিবেকানন্দ মন্দির, শ্রীশ্রীমা'র মন্দিরে প্রণাম করে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁর আশীর্বাদ চান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে প্রসাদ খান মুখ্যমন্ত্রী। মঠের তরফে তাঁকে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের প্রসাদী শাল, বই ও কলম উপহার দেওয়া হয়। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সহ সাধারণ সম্পাদক স্বামী বলভদ্রানন্দ জানান, তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন নিবেদিতা বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন ভারতবর্ষ তাঁর আরাধ্য দেবতা। সেই কথা মেনে চলেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা, আধ্যাত্মিক চেতনা, স্বাস্থ্য ও সেবা এই চারটি আদর্শ নিয়েই চলতে চান বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে এদিন বেলুড় মঠ প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নতুন সফর শুরু করার আগে আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ গ্রহণ করাই ছিল তাঁর এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য। মঠের প্রবীণ সন্ন্যাসীরা মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন উত্তরীয় পরিয়ে এবং মঠের পবিত্র স্মারক ও প্রসাদ দিয়ে স্বাগত জানান। প্রেসিডেন্ট মহারাজ রাজ্যের সামগ্রিক শান্তি, জনকল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনা করে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও রামকৃষ্ণ মিশনের মানবসেবার দর্শন সর্বদা সমাজকে পথ দেখায়। বাংলার সাড়ে দশ কোটি মানুষের সেবা করার যে নতুন দায়িত্ব তিনি কাঁধে নিয়েছেন, তা সফলভাবে পালন করতে এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তিনি এই পুণ্যভূমিতে আশীর্বাদ নিতে এসেছেন। মঠের সন্ন্যাসীদের প্রতি এবং তাঁদের নিঃস্বার্থ সমাজসেবামূলক কাজের প্রতি তিনি তাঁর গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী বেলুড় মঠ থেকে হাওড়ায় তাঁর পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।