মনের আশা পূরণ করেছেন দেবাদি দেব মহাদেব,দন্ডি কেটে পুজো দিলেন সুজিত

মনের আশা পূরণ করেছেন দেবাদি দেব মহাদেব,দন্ডি কেটে পুজো দিলেন সুজিত
সুভাষ চন্দ্র দাশ,বাসন্তী -মানত করেছিলেন। মনের আশা পূর্ণ হয়েছে।অবশেষে দীর্ঘ প্রায় দশ কিমি রাস্তা দন্ডি কেটে মন্দিরে গিয়ে পুজো দিলেন একনিষ্ঠ এক বিজেপি কর্মী সমর্থক।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে,সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের বামচন্দ্রখালি পঞ্চায়েতের চরপাড়া গ্রাম। গ্রামেরই বাসিন্দা সুজিত মন্ডল। পেশায় একজন স্ট্রিট ফুডের ব্যবসায়ী।২০২৬ এ বিধানসভা নির্বাচন ঘোষনা হতেই ১ লা বৈশাখে দলের একনিষ্ঠ কর্মী সমর্থক সুজিত মন্ডল বাড়ি থেকে দশ কিমি দূরে মোকামবেড়িয়ার বড়কাছারী মন্দির(শিব) এ গিয়েছিলেন।যাতে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে সেকারণে নদীতে স্নান করে বড়কাছারী মন্দিরে শিবের কাছে মানত করেছিলেন।৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হয়।একক ভাবে সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে বিজেপি। ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী।আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন সুজিত ও তার পরিবার প্রতিবেশীরা
সমস্ত স্বপ্ন সফল হতেই আর বিলম্ব করেননি সুজিত।পরিবার পরিজন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে নির্দিষ্ট সময় মেনে রবিবার রাত সাড়ে আটটার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন।দীর্ঘ দশ কিমি পথ দন্ডি কেটে সোমবার ভোর দুটো পঁয়তাল্লিশ মিনিটে বড় কাছারি মন্দিরে পৌঁছে যান।সেখানে  সকালে স্নান সেরে ১০৮ পদ্মফুলের মালা,ফলমূল,ডাব সহযোগে পুজো দিয়ে মানত শোধ করেন।অন্যদিকে দলীয় কর্মীর এমন খবর শুনে সেই মুহূর্তে বড়কাছারী মন্দিরে হাজির হন গোসাবার নবনির্বাচিত বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর। তিনি ওই কর্মী সমর্থক কে ভূয়সি প্রশংসা করেন এবং নিজেও পুজো দেন।  
বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর জানিয়েছেন, ‘ তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যচার ছিল লাগাম ছাড়া। দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষ বীতশ্রদ্ধ। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আমাদের ত্রাতা।খোদ সৃষ্টি কর্তাও এমন অত্যাচার সহ্য করতে পারছিলেন না।সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন।চেয়েছিলেন শান্তি।তৃণমূলের সন্ত্রাস থেকে আমাদের কর্মী সুজিত মন্ডলও পরিত্রাণ চেয়ে বড়কাছারী মন্দিরে শরণাপন্ন হয়ে মানত করেছিলেন।পরিবর্তন চেয়েছিলেন। পরিবর্তন হয়েছে।শান্তি ফিরেছে।মানত শোধ করার সময় উপস্থিত থাকতে পেরে গর্বিত মনে হয়েছে। ’
সুজিত জানিয়েছেন, ‘বিগত ১০ বছরের অধিক সময় বিজেপি পার্টীর সাথে যুক্ত। একপ্রকার আমি একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অসাধু লোকজনদের জন্য গ্রামসভায় কেউ প্রার্থী হতে পারছিলেন না।তখনই আমার স্ত্রী টুম্পা মন্ডল গ্রামসভায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন।পরবর্তী সময় নানান ধরনের হুমকি দেওয়া হয় আমাকে। বলা হয় দোকানপাট,বাড়িঘর ভাঙচুর করে দেওয়া হবে।সন্ত্রাস চালানো হবে।লাগাতর হুমকির জেরে জর্জরিত হয়ে যাই। অবশেষে বাধ্যতামূলক ভাবে আমার স্ত্রী প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে।সেখানে আমার ক্ষোভ ছিল। যা প্রকাশ করতে পারিনি। ২০২৬ নির্বাচনে হার্মাদদের রুখতে এবং বিজেপি যাতে ক্ষমতায় আসে সেকারণে বড়কাছারী মন্দিরে মানত করেছিলাম।মানত পূরণ হয়েছে।আমি,আমার পরিবার ও প্রতিবেশীরা খুশি। সোমবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্করের উপস্থিতেতে ভক্তিশ্রদ্ধার সাথে মানত শোধ করেছি’।