উদয়নারায়ণপুরে ভোটকেন্দ্রে বৃদ্ধের মৃত্যু, অভিযোগ তৃণমূল
বাংলায় দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণের দিন বুধবার হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র চত্বরে এক বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মৃতের পরিবারের তরফ থেকেও একই অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই নিয়ে থানাতেও অভিযোগ জানাতে চলেছেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। জানা গেছে, মৃত ওই বৃদ্ধের নাম পূর্ণচন্দ্র দলুই (৮১)। ২৪৫ নং বুথ কুরিট, বলরামপুর, খোসালপুর পঞ্চায়েত এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। ওই বৃদ্ধ ভোটার তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে বুথে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলেকে বৃদ্ধের সঙ্গে বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে তিনি একাই ভোটকেন্দ্রে যান। ছেলে বাইরে বাবার অপেক্ষায় ছিলেন। আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে ওই বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে 'নৃশংস' ও 'পরিকল্পিত খুন' বলে দাবি করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। উদয়নারায়ণপুরের খোশালপুর পঞ্চায়েতের বলরামপুরে বাড়ি ওই বৃদ্ধের। এদিন তিনি বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। তিনি অসুস্থ ছিলেন। ছেলেক সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যাবার জন্য দুবার আবেদন করলেও সেখানে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তা নাকচ করে দেন। তৃতীয়বার অসুস্থ ওই বৃদ্ধ একাই ভোট দিতে যান। ছেলে বুথের ১০০ মিটার দূরে অপেক্ষা করছিলেন। ওই বৃদ্ধ অসুস্থ অবস্থাতেই বুথের মধ্যে ঢুকে কোনওমতে একাই ভোট দেন। কিন্তু ভোট দেবার পরেই তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের তিনি অনুরোধ করেন তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছেলেকে ডেকে দিতে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সেই অনুরোধে কর্ণপাত না করে তাঁকে বুথ থেকে বের করে দিতে যায়। এর জেরেই বুথের গেটের সামনে হুমড়ি খেয়ে তিনি পড়ে যান। এই খবর চাউর হতেই সেখানে ছুটে আসেন তাঁর বাড়ির লোকজন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিন খবর পেয়েই দ্রুত চলে আসেন উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূলের প্রার্থী সমীর পাঁজা। তিনি বলেন, একজন অসুস্থ বৃদ্ধ মানুষও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাননি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। বারবার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধ কেন্দ্রীয় বাহিনী তো রাখেইনি উল্টে কপালে জোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কা। তাতেই পড়ে গিয়ে তিনি মারা যান। কেন্দ্রীয় বাহিনী কতটা হিংস্র ও অমানবিক হলে এমনটা করতে পারে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
admin