কাকদ্বীপের জনসভা থেকে রাজ্যের মৎস্যজীবীদের দুর্দশা তুলে ধরে তাঁদের উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। বৃহস্পতিবার তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদের আর্থিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও বাজার সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৎস্যজীবীরা পরিশ্রম করলেও তাঁদের প্রাপ্য মূল্য পাচ্ছেন না। পরিকাঠামোর অভাব, বিশেষ করে পর্যাপ্ত হিমঘর না থাকার কারণে মাছ সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে এবং ফলে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছনোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে বিজেপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলায় একটি শক্তিশালী মাছ রফতানি কেন্দ্র বা “এক্সপোর্ট হাব” গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে কাকদ্বীপসহ উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীরা দেশের বড় শহর এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মাছ বিক্রির সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
মোদী আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই মৎস্যপালনের জন্য পৃথক মন্ত্রক গঠন করেছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা ও তথ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এ দিনের ভাষণে অনুপ্রবেশ ও উপকূলীয় নিরাপত্তা নিয়েও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দল উপকূলবর্তী অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে চোরাচালান বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে উপকূলীয় নজরদারি জোরদার করা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পাচারচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মোদী।
ভোটার তালিকা নিয়েও বিতর্ক উসকে দিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের এক বিধায়ক টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলেছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিধায়কের সরাসরি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। দলের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, রাজ্য সরকার মৎস্যজীবীদের কল্যাণে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রকল্প চালু করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে কাকদ্বীপের সভা থেকে মৎস্যজীবীদের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় অর্থনীতিকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠল।