সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং - কনজেনিট্যাল ট্যালিপাস ইকুইনো ভ্যারাস(সি টি ই ভি)রোগের চিকিৎসায় সাফল্য।একেবারেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো সুন্দরবনের ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল।উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ব্লক থেকে প্রতিদিনই হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা পরিষেবার জন্য এই মহকুমা হাসপাতালে আসেন। এমনকি রাজ্যের ভিন জেলা থেকেও রোগীরা আসেন চিকিৎসার জন্য। বিগত প্রায় দুমাস আগে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের ‘মাতৃমা’ তে ভর্তি হয়েছিলেন ঝুমা সাঁফুই।তাঁর বাড়ি ক্যানিং থানার অন্তর্গত নলিয়াখালি গ্রামে।মাতৃমা হাসপাতালে কন্যাসন্তান প্রসব করেন।এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় কন্যাসন্তান।সুস্থভাবে প্রসব হলেও জন্মের পর শিশুর শরীরে দেখা যায় তার দুটি পা পুরোপুরি বাঁকা।একপ্রকার শিশুটি বড় হলে তার হাঁটা চলা সমস্যা হবে। এমনকি ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধী চেহারায় রুপ নেবে। এমত অবস্থায় মহাফাঁপরে পড়ে সাঁফুই পরিবার।হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শিশু কন্যাকে নিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয় ওই পরিবার।সেই সমস্ত চিকিৎসকরা জানিয়ে দেয়,এমন রোগের সমাধান নেই। অগত্যা আরো ভেঙে পড়ে সাঁফুই পরিবার।মাস দুই পর শিশু কন্যাকে নিয়ে হাজীর হয় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের অস্থি বিশেষঞ্জ চিকিৎসকের কাছে। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের অস্থি বিশেষঞ্জ চিকিৎসক ডাঃ কার্তিক নাসিপুরি ওই শিশুর চিকিৎসা শুরু করেন।বর্তমানে ডাঃ নাসিপুরির চিকিৎসায় দুমাসের ছোট্ট শিশু সহেলি সাঁফুই সুস্থ হওয়ার পথে।খুশি সাঁফুই পরিবারের সদস্যরা।
সাঁফুই পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের প্রতি কৃতঞ্জতা জানিয়ে প্রশংসা করেছেন।
ছোট্ট শিশু সহেলির মা ঝুমা সাঁফুই জানিয়েছেন, ‘শিশুর জন্মের পর হাসপাতাল থেকে বাড়িতে গিয়েছিলাম। তারপর পা দুটি বাঁকা নজরে পড়ে।হাসপাতালে না গিয়ে প্রাইভেট চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। তাঁরা জানিয়ে দেয়,এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়।মেয়ে কে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। পরে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে আসতেই সেই চিন্তা মুক্ত হয়।আমার মেয়ের চিকিৎসা হয়। এবং পরবর্তী সময়ে সে সুস্থভাবে চলাচল করতে পারবে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।আমরা খুব খুশি।’
এমন কঠিন রোগ সম্পর্কে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের অস্থি বিশেষঞ্জ চিকিৎসক ডাঃ কার্তিক নাসিপুরি জানিয়েছেন,ট্যালিপাস ইকুইনো ভ্যারাস(CTEV)চিকিৎসা পরিভাষায়,ওই শিশু কনজেনিট্যাল ট্যালিপাস ইকুইনো ভ্যারাস(সি টি ই ভি)রোগে আক্রান্ত। যা কিনা জন্মের পর থেকে চিকিৎসা পরিষেবায় পুরোপুরি সুস্থ হওয়া যায়। তবে নুন্যতম পাঁচ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলে তা সম্ভবপর হয়না। এছাড়াও জন্মের পর প্রায় এক হাজার শিশুর মধ্যে এক জন কে এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
‘কনজেনিট্যাল ট্যালিপাস ইকুইনো ভ্যারাস’ হল ‘জন্মগত মুগুর পা’ বা ‘জন্মগত টালি পা’।
(১)কনজেনিট্যাল(Congenital) অর্থাৎ জন্মগত।অর্থাৎ বাচ্চা পেটে থাকতেই যে সমস্যা নিয়ে জন্মায়।
(২)ট্যালিপাস(Talipes) পায়ের পাতার বিকৃতি। ল্যাটিন Talus - গোড়ালি +Pes = পা।
(৩)ইকুইনো - Equino - ঘোড়ার মতো। ল্যাটিন equinus - ঘোড়া। এখানে পায়ের গোড়ালি উপরে উঠে থাকে, আঙুল নিচের দিকে নামানো থাকে,ঘোড়ার খুরের মতো।
(৪) ভ্যারাস (Varus)-ভিতরের দিকে বাঁকা। পায়ের পাতা ভিতরের দিকে মোড়ানো থাকে।
এটা সাধারণত বাচ্চাদের জন্মগত পায়ের বিকৃতি। এতে এক বা দুই পায়ের পাতা ভিতরের দিকে ও নিচের দিকে বেঁকে থাকে। একে সাধারণ ভাষায় "মুগুর পা" বা "টালি পা" বলে।
এই রোগের লক্ষণ-পা স্বাভাবিকভাবে মাটিতে ফেলা যায় না, হাঁটতে অসুবিধা হয়।
চিকিৎসাগত ভাবে পনসেটি মেথডে প্লাস্টার, জুতো, প্রয়োজনে অপারেশন করা হয়। যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু হয়, তত ভালো ফল পাওয়া যায়।’