গুরুদেবের স্মৃতিতে প্রণাম করে প্রচার শুরু করলেন অনিমেশ

গুরুদেবের স্মৃতিতে প্রণাম করে প্রচার শুরু করলেন অনিমেশ
সুভাষ চন্দ্র দাশ,গোসাবা -প্রয়াত জয়ন্ত নস্কর। একদা তিনি ও তাঁর পরিবার কংগ্রেস করতেন। পালাবদলে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন।গোসাবা-বাসন্তীর মাটিতে রাজনৈতিক সাইক্লোন কে প্রতিহত করে তৃণমূল কংগ্রেস কে প্রতিষ্ঠা করছিলেন তিনি। বিধায়ক হয়েছিলেন। বিগত ২০২১ এ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের।তাঁর প্রয়াণের পর গোসাবা-বাসন্তীর মাটিতে বড় বড় নেতানেত্রীর আবির্ভাব ঘটেছে। কিন্তু সুন্দরবনের ১২৭ গোসাবা ও ১২৮ বাসন্তী বিধানসভা এলাকায় আজও তাঁর অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত। সাতজেলিয়ার সুভাষ চন্দ্র মন্ডল। তিনি ছিলেন কংগ্রেস নেতা। এমনকি তিনি গোসাবা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা ছিলেন।২০০৬ সালে তাঁর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে জয়ন্ত নস্করের।সেই সময় ছাত্র রাজনীতি করতেন সুভাষ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে অনিমেশ।২০১৮ সালে এক প্রকার জোর করেই সুভাষ মন্ডলের ছেলে অনিমেশ মন্ডল কে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসেন জয়ন্ত নস্কর।তাঁরই হাতধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন সাতজেলিয়ার অনিমেশ মন্ডল। ছায়াসঙ্গীর মতোই জয়ন্ত নস্করের পাশে থাকতেন।জয়ন্ত নস্করের প্রয়াণের পর গোসাবার বিধায়ক হয়েছিলেন সুব্রত মন্ডল।সুত্রের খবর পরবর্তী সময়ে সুব্রত মন্ডলের সাথে দুরত্ব তৈরী হয় নস্কর পরিবার সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্বের। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে সুব্রত মন্ডল কে দল পুণরায় প্রার্থী করেছে।রাজনৈতিক সমীকরণে গোসাবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি গোসাবা বিধানসভার তাবড় তাবড় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা।ফলে তাঁরা বিজেপি তে যোগদান করেছেন।সুত্রের খবর, রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যাপক ভাবে এবার পাল্লা ভারী বিজেপির পক্ষে।
একদা জেলাপরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেশ মন্ডল বিজেপিতে গেলেও প্রয়াত গুরুদেব কে ভুলে যাননি। শুক্রবার প্রয়াত জন্ত নস্করের বগুলাখালি বাড়িতে হাজীর হয়েছিলেন। সেখানে জয়ন্ত নস্করের স্মৃতি সৌধ তে পুষ্পার্ঘ প্রদান করে তাঁরই তৈরী কালি মন্দিরে প্রণাম করেন। এরপর শুরু করেন নির্বাচনী প্রচার পর্বের ঝোড়ো ব্যাটিং।
উল্লেখ্য,দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের ১২৭ গোসাবা বিধানসভা। ১৬ টি পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত।নদীনালা বেষ্টিত এই বিধানসভা এলাকায় রয়েছে ৯ দ্বীপ।এলাকার অধিকাংশ মানুষজন কৃষিকাজ ও নদীতে মাছ কাঁকড়া ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। ইতিমধ্যে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তাপের পারদ চরমে।বিগত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে সুন্দরবনের ১২৭ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির চিত্ত প্রামাণিক কে হারিয়ে ২৩২৪৩ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন জয়ন্ত নস্কর।ভোটের ফলাফল ছিল -  জয়ন্ত নস্কর(তৃণমূল কংগ্রেস) মোট ভোট পেয়ে ছিলেন ১০৪৭৫৮(৫৩.৯১%),
বিজেপির বরুণ প্রামাণিক (চিত্ত)৮১৫১৫ (৪১.৯৫%),আরএসপির অনিল চন্দ্র মণ্ডল ৪৮৪৮(২.৪৯%),বিএসপির হরিপদ মণ্ডল ১২৭০(০.৬৫%),এসইউসিআই এর তপন মিস্ত্রি ৯১০ (০.৪৭%)। 
 নির্বাচনের পরেই করোনায় মৃত্যু হয় বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের।২০২১ এর নভেম্বরে উপানির্বাচন হয়।বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা কে পরাস্ত করে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মন্ডল জয়ী হয়।
পরবর্তী সময়ে গোসাবা বিধানসভায় অনেক জল গড়িয়েছে। শাসক দলের মধ্যে বার বার গোষ্ঠি কোন্দলের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।তৃণমূল কংগ্রেসের বড় একটা বিধায়ক সুব্রত মন্ডল কে মেনে নিতে পারছিলেন না। শুধু মেনে নেওয়া নয়,২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে অন্য কাউকে প্রার্থী হিসাবে দেখতে চেয়েছিলেন।এছাড়াও নির্বাচন ঘোষনার আগেই সুব্রত মন্ডলের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় মিটিং মিছিল করে এক প্রকার সুব্রত মন্ডলের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা করে দেয়।পাশাপাশি দেড় লাখ ভোটে সুব্রত মন্ডল জিতবেন এমনটা ঘোষনা করা হয়।সুব্রত’র এহেন কার্যকলাপ মেনে নিতে পারছিলেন না দলে অধিকাংশ নেতৃত্ব।ফলে দলের অন্দরে দাবানলের মতো আগুন জ্বলতে শুরু করে।এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তালিকা ঘোষনা করে।দল সুব্রত’র প্রতি আস্থা রেখে পুণরায় গোসাবায় প্রার্থী করে।শুরু হয় বিস্তর জলঘোলা।বিক্ষুব্দ্ধ তৃণমূল নেতা নেত্রীরা বিজেপি’তে পা বাড়ানোর চেষ্টা করে।সেই মুহূর্তে গোসাবায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি জনসভা হয়। জনসভায় মূখ্য বক্তা ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী।বিক্ষুদ্ধ নেতা নেত্রীরা জনসভার দিকে চাতকের মতো তাকিয়ে ছিলেন। ভেবেছিলেন হয়তো তাঁদের দলীয় নেতৃত্ব প্রার্থী বদল করবেন এবং বিক্ষুব্দ্ধদের মঞ্চে ঠাঁই হবে।তবে সে পথেই পা মাড়ান নি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।বরং মঞ্চ থেকে বিক্ষুব্দ্ধদের প্রতি কড়া মনোভাবের মত ব্যক্ত করেন অভিষেক।যদিও অভিষেকের কড়া মনোভাব কে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে গোসাবার অধিকাংশ তৃণমূল নেতা নেত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করে।বড় ফাটল ধরে শাসক দলের অন্দরে।
গোসাবা বিধানসভার রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয় দল জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবী, ‘গোসাবার লবণাক্ত মাটিতে যে বা যারা পদ্মফুল ফোটানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। তা সফল হবে না।তাছাড়া,পঞ্চায়েত,পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে আমরা রয়েছি। গোসাবার মাটিতে বিজেপির অস্তিত্ব নেই।যার কারণে গোসাবার মাটিতে ঘাস ফুল বিস্তৃত হয়েছে। ঘাস ফুল ছিল,আছে এবং আগামীতেও থাকবে।’
অন্যদিকে গোসাবার মাটিতে পদ্মফুল যে ফুটছে,এটা নিশ্চিত। এমনটাই জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর। তিনি বলেছেন,গোসাবার মানুষ শুধুমাত্র অপেক্ষায় রয়েছেন।তাঁরা পরিবর্তন চাইছেন। তাছাড়াও শম্ভুনগর পঞ্চায়েতের উপ প্রধান বরুণ ওরফে চিত্ত প্রামাণিক,কচুখালি পঞ্চায়েতের তাপস মন্ডল,জেলাপরিষদের উপাধ্যক্ষ তথা সাতজেলিয়ার অনিমেশ মন্ডল,আমতলি পঞ্চায়েতের রঞ্জন মন্ডল,গোসাবা পঞ্চায়েতের বিকাশ নস্কর’রা বিজেপিতে যোগদান করেছেন।ফলে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব যতই নাচানাচি করুক না কেন,গোসাবার মানুষ পরিবর্তনের জোয়ারে গা ভাসিয়েছেন।’
অন্যদিকে তৃণমূল থেকে সদ্য বিজেপিতে যোগদান করা অনিমেশ মন্ডল জানিয়েছেন, ‘গোসাবা ব্লকে তৃণমুল কংগ্রেস জেতা হারা নির্ভর করে মুলত চুনাখালি অঞ্চলের ভোটের উপর। এই এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বিগত নির্বাচন গুলোতে ১০ হাজারের অধিক ভোট লিড দিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত অন্য কোন রাজনৈতিক দল এখানে থাবা বসাতে পারেনি। তবে ওই এলকায় এবার বিজেপি, তৃণমূলের ভোটে থাবা বসিয়েছে। যারফলে এবার যে রাজনৈতিক চিত্র আলাদা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।’
নাম জানাতে অনিচ্ছুক অপর এক তৃণমূল নেতা জানিয়েছে, ‘দল আমাদের দেবতুল্য জয়ন্ত বাবুর পরিবারকে অসম্মান করেছে।তা আমরা কোন ভাবে মানতে পারছি না।’