আবুধাবিতে ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে  বুল্টি  জোড়া স্বর্ণপদক জয় করে ফিরলেন

আবুধাবিতে ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে  বুল্টি  জোড়া স্বর্ণপদক জয় করে ফিরলেন
মলয় সুর: আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স গেম ২০২৩-এ জোড়া স্বর্ণপদক জয় করে ফিরলেন তারকেশ্বরের বুল্টি রায়। ৩৫ বছরের গৃহবধূর  পর পর  এই সাফল্যে গর্বিত পরিবারের পাশাপাশি তাঁর কর্মস্থান সিঙ্গুর থানার অফিসাররা ও তারকেশ্বর পৌরসভার চেয়ারম্যান উত্তম কুন্ডুও। ৪২টি দেশের প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে ১০০ এবং ৪০০ মিটার হার্ডলসে সোনা ও ২০০ মিটার হার্ডলসে রৌপ্য পদক জয় করে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
তারকেশ্বর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের জয়কৃষ্ণবাজার বটতলা এলাকায় এক কামড়া টালির বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। তাঁর স্বামী সন্তোষ সিং লোকাল ট্রেনে হকারি করেন। দুই ছেলে-মেয়ে; মেয়ে বিন্দিয়া সিং  নবম শ্রেণিতে ও ছেলে শিবশঙ্কর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। এর আগেও সে বেশ কয়েকবার সোনা জিতেছেন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কায় মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে তিনটি ইভেন্টে সোনা পেয়ে ত্রি-মুকুট জয় করেন। উল্লেখ্য, এই ৫ ই  ফেব্রুয়ারি শুরু হয় আবুধাবিতে 'ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স গেম-২০২৬',  আর ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। বর্তমানে মুম্বাই থেকে ট্রেন ধরে হাওড়ায় আসছেন বুল্টি। ফোনে জানালেন, বহু মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় আজ তিনি এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন, তাই সবার কাছে কৃতজ্ঞ তিনি। খেলার জন্য ও পরিবারের আর্থিক কষ্টের জন্য পুলিশ দপ্তর তাঁকে হোমগার্ডের একটি চাকরি দিয়েছেন, সেটাই তাঁর একমাত্র সম্বল। তবে সে অকপটে  স্বীকার করেন যে কোনো প্রতিযোগিতায় খালি হাতে ফেরত আসেন না। তাঁর জেদ তাঁকে উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
আবুধাবিতে যাওয়ার জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। কোথায় পাবেন এত টাকা?  চিন্তায় ছিল।  সেদিন এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়ান এক সহৃদয় ব্যক্তি কামারকুন্ডুর বাসিন্দা ভৈরবনাথ দাস ও তাঁর স্ত্রী মানসী ও ছেলে পার্থ দাস। তারা প্রত্যেকেই খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে দেন। তাঁরা তাঁকে এক লক্ষ টাকা দেন। এরপর হুগলি গ্রামীণের পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন তাঁকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এছাড়া তারকেশ্বর ও পুরশুড়া থানার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হয়। তবে এই সব সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্যের সম্মান রেখেছেন ঝুল্টি। তাঁর সাফল্যের খবরে আনন্দে উল্লসিত হয়ে রয়েছেন সকলেই। ঝুল্টি আরও উন্নতি করুক, সে দেশের গর্ব।
এর আগে কলম্বোতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সময় আলিপুর বার্তা পত্রিকা তাঁকে ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য করেছিলেন।