উপকূলের মানুষের মুখে হাসি: গঙ্গাসাগরে 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পের জোরদার প্রচার
সৌরভ নস্কর গঙ্গাসাগর: সুন্দরবনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সাগর। যেখানে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর আমফান-ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড় সাধারণ মানুষের জীবনকে তছনছ করে দেয়। মাটির দেওয়াল আর খড়ের চালের নিচে রাত কাটানো এই দ্বীপবাসীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সেই ভয় দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প 'বাংলার বাড়ি' এবার পৌঁছে যাচ্ছে সাগরের ঘরে ঘরে। সাগর ব্লকের প্রায় ৪ হাজার ৫৫০ জন উপভোক্তা এই প্রকল্পের অধীনে পাকা বাড়ি পেতে চলেছেন। ব্লক প্রশাসনের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই ১৫টি বাড়ির ভূমিপুজো বা ভিত পুজোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপভোক্তারা দুই দফায় মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পাবেন। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার এবং কাজ এগোনোর পর দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ৬০ হাজার টাকা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ঘাটে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জলপথকে বেছে নিয়েছে প্রশাসন। কচুবেড়িয়া লঞ্চঘাটে এবং বিভিন্ন নৌকার গায়ে লাগানো হয়েছে বড় বড় কাট-আউট ও ব্যানার। নদীপথে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ প্রচার চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুর্যোগের সময় মাটির বাড়ি ভেঙে পড়ার ভয়ে তাদের ঘুম আসত না। তড়িঘড়ি ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্কুল বা ফ্লাড সেন্টারে আশ্রয় নিতে হতো। এখন পাকা বাড়ি তৈরির সুযোগ পেয়ে সেই অনিশ্চয়তা কাটতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগের জন্য সাগরদ্বীপের মানুষ তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সাগরের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কানাইয়া কুমার রায় জানান, "সাগরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখানকার মানুষের পাকা ছাদের খুব প্রয়োজন ছিল। দ্রুততার সাথে বাকি উপভোক্তাদের বাড়ির কাজ শুরু করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"
admin