সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং - শাসকদলের ভরসা ছিল না,তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে অবাধ নির্বাচনের জন্য আত্মবিশ্বাস ছিল বিরোধীদের। তবে সেই গুড়ে বালি।দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন চলাকালিন একাধিক বুথে ঝরলো রক্তপাত।দুজন বিজেপি প্রার্থী সহ কমপক্ষে মোট ১০ জন বিজেপি কর্মী সমর্থক জখম হয়েছে।১৩৯ ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার মঠেরদিঘী পঞ্চায়েতের ২৫৭ নম্বর বুথ।বিজেপির অভিযোগ সেখানে শাসক দলের দুষ্কৃতিরা ছাপ্পা দিচ্ছিলেন।প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী সহ কর্মী সমর্থকরা। প্রতিবাদে সরব হতেই দুষ্কৃতিদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অসীম সাঁপুই,অর্পণ দাস,সুমন হালদার,বাপন মন্ডল,নূর উদ্দিন মোল্লা।বর্তমানে নূরউদ্দিন মোল্লা নিঁখোজ।অন্যান্য বিজেপি কর্মীরা আক্রান্তদের কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে তারা।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা অর্পণ দাস জানিয়েছেন, ‘ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকা স্পর্শকাতর। আমরা পুলিশ প্রশাসন কে নিরাপত্তার ব্যাপারে জানিয়েছিলাম। কোন কিছুই কর্ণপাত করেনি। এদিন ২৫৭ নম্বর বুথে তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীর জবেদ সেখ ছাপ্পা দিচ্ছিল। সেখানে গেলে হোসেন সেখ এর নেতৃত্বে হাজার হাজার দুষ্কৃতি আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।বাঁশ,লাঠি,বন্ধুকের বাঁট দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আমাদের পাঁচজন জখম হয়। নূরউদ্দিন নামে এক কার্যকর্তা নিখোঁজ রয়েছে।সেখান থেকে কোন রকমে আমরা পালিয়ে প্রাণে বাঁচি। একটি কুইক রেসপন্স এর গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছাই।’
১২৮ বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বিকাশ সরদার তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ।এদিন তাঁকে একটি বুথের সামনে বেধড়ক মারধর করে তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।আরো অভিযোগ তাঁর নিরাপত্তা কর্মীর হাত থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার ও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনা আহত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদার।
বিকাশের দাবী,সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তৃণমূল নেতা রাজা গাজীর ইন্ধনে। ’
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আচমকা তৃণমূল এজেন্টকে মারধর করায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ১৩৮ ক্যানিং পশ্চিমের ১১২ ও ১১৩ নম্বর বুথ। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সরব হয় ১৩৮ ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাস।
তিনি জানিয়েছেন, গত পরশুদিন মাতলা মাতলা ১ পঞ্চায়েত উপপ্রধান প্রদীপ দাসের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে মহিলাদের কে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে অত্যাচার করেছে।বুধবার ১১২ ও ১১৩ নম্বর বুথে যখন ভোট চলছিল।সেখানে এজেন্ট ছিলেন প্রদীপ দাস।আচমকা কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে বের করে কুকুরের মতো পিটিয়েছে।আবার কেন্দ্রীয় বাহিনী বলেছে আমরা মোদীর বাচ্ছা।মোদী আমাদের বলেছে, বিজেপির হয়ে ভোট করাবো। কোন বাবা আছে পাঠাও।এমন ঘটনার পর আমি প্রার্থী হিসাবে ১১২ ও ১১৩ নম্বর বুথে হাজীর হই।কেন্দ্রীয় বাহিনী আমার সাথেও খারাপ ব্যবহার করে। এমন ঘটনা এলাকার মানুষজন মেনে নিতে পারেন নি। তাঁরা প্রতিবাদে সরব হয়। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে।’
অন্যদিকে বিকে ৫ টা পর্যন্ত ১২৭ গোসাবা বিধানসভায় ৯১.২৫ ,১২৮ বাসন্তী বিধানসভায় ৯৩.৭৩ , ১৩৮ ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভায় ৯৩.৫৪ ও ১৩৯ ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকায় ৯৩.৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে।যা সর্বকালীন এক রেকর্ড। যদিও বুথে বুথে যে লম্বা লাইন রয়েছে তাতে করে শতাংশের হার আরো বাড়বে।