শান্তিনিকেতনে বোমা তৈরির আস্তানার হদিশ, রাতভর অভিযানে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

শান্তিনিকেতনে বোমা তৈরির আস্তানার হদিশ, রাতভর অভিযানে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার
শান্তিনিকেতন: পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র শান্তিনিকেতন-এ ফের চাঞ্চল্য। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের অভিযান ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল শান্তিনিকেতন থানার প্রান্তিক এলাকায়। অভিযোগ, একটি হোটেলের ভিতরে রাতের অন্ধকারে বসে চলছিল বোমা তৈরির কাজ। খবর পেয়ে শান্তিনিকেতন ও বোলপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ওই হোটেলে হানা দেয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর সেখান থেকে প্রায় ৫০টিরও বেশি তাজা বোমা, বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, বারুদ ও অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শান্তিনিকেতন বরাবরই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র। এমন একটি পর্যটন এলাকায় বোমা তৈরির মতো গুরুতর ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বোলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রিকি আগারওয়াল জানান,
“প্রান্তিক এলাকার ওই হোটেল থেকে প্রায় ৫০টিরও বেশি বোমা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একাধিক উপকরণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর, তদন্ত চলছে।”
পুলিশ সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বড়সড় নাশকতার উদ্দেশ্যে মজুত করা হতে পারে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বোমাগুলি কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও অনেক তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এই প্রান্তিক এলাকায় একটি হোটেলকে ঘিরে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই এলাকাতেই বোমা তৈরির অভিযোগ সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই ঘটনার পর শান্তিনিকেতন ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ, ধীরে ধীরে সামনে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।