অর্থসংকটে ধুঁকছে দাঁইহাট পুরসভা, অ্যাম্বুলেন্স মেরামতেরও সংস্থান নেই
দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: চরম অর্থসংকটের কারণে ধুঁকছে পুরসভা।উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্সও মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।এমনতর দুর্দশাগ্রস্ত ছবিটি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমান জেলার দাঁইহাট পুরভবন চত্বরের একটি ছাউনিতে।সেখানে একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স বিকল অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে অন্তিম পরিণতির দিকে ঝুঁকছে।য়েটাকে কিছু অর্থ ব্যয়ে মেরামত করলেই পুনরায় সচল করে রোগী পরিষেবার কাজে যুক্ত করা সম্ভবপর হবে বলে অনেকেরই দাবি।অথচ সেই পরিমাণ অর্থও নাকি পুরসভার তহবিলে নেই।এই অর্থসংকটের কারণে পুরসভার আরও কিছু কিছু উন্নয়নমূলক কাজ থমকে রয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত দাঁইহাট পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান সমর সাহা বলেন, এইমুহূর্তে পুরসভার তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব থাকায় অনেক কিছুই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।একই কারণে ওই বিকল অ্যাম্বুলেন্সটিকেও মেরামত করা হয়নি।তবে, এজন্য কিন্তু রোগীর পরিষেবা প্রদানের কাজে কোনও সমস্যা হয়নি।কারণ, আমাদের পুরসভায় আরও কিছু অ্যাম্বুলেন্স আছে এবং সেগুলি সর্বদা পরিষেবা প্রদানের কাজে যুক্ত।রাজ্যের ‘শস্যগোলা’ পূর্ব বর্ধমান জেলার সীমান্তবর্তী ভাগীরথী নদীর ডান তীরবর্তী দাঁইহাট পুরসভা দেড় শতাধিক বছরের পুরনো।কিন্তু, এত পুরনো একটি জনপদ হলেও শহরজুড়ে কার্যত অনুন্নয়নের ছবিটাই প্রকট।মোট ১৪টি ওয়ার্ড সম্বলিত দাঁইহাট পুরশহরের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে কৃষিজমি, জলাভূমি, খানাখন্দ সহ গাছপালায় পরিপূর্ণ্।নদীর বাঁধ বরাবর মোট তিনটি ওয়ার্ড(২, ৯ এবং ১০ নং) বন্যাপ্রবণ এলাকার মধ্যেই পড়ে।প্রতিবার বর্ষাকালে বন্যার আতঙ্ক গ্রাস করে এই তিনটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।শহরের ১, ৩, ৬, ৭, ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ নং ওয়ার্ডগুলির বিস্তীর্ণ অংশজুড়েও জলাভূমি সহ কৃষিজমি বিদ্যমান।বাদবাকি ওয়ার্ডগুলি একটু ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা রূপে পরিগনিত হয়।শহরের জনসংখ্যা তিরিশ হাজারের গণ্ডিও পেরোতে পারেনি।এমন একটি শহরের কোথাও কোনওরকম শিল্প-কারখানার চিহ্নটুকুও নেই।মাছ-মাংস থেকে শুরু করে শাকসবজি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচাকেনার একটিমাত্র বাজার রয়েছে।অথচ কয়েকশো বছর আগে এই দাঁইহাট শহরই কাঁসাপিতল শিল্প সহ বাণিজ্যক্ষেত্রে বঙ্গদেশজুড়ে সুনাম অর্জন করেছিল।এরকম একটি পুরশহর বছরের পর বছর ধরে অনুন্নয়ন আর সরকারি বঞ্চনার শিকার।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্যের কোনও সরকারই দাঁইহাট শহরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উদারহস্তে কখনও এগিয়ে আসেনি।সেইসঙ্গে পুরবোর্ডে যে দল যখনই ক্ষমতায় বসেছে তারা স্বজনপোষণে মত্ত হয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে যথেচ্ছভাবে কর্মী নিয়োগকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে; পুরসভার সার্বিক উন্নতি সাধনকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।যেকারণে রাস্তা সংস্কার থেকে শুরু করে নিকাশি ব্যবস্থা, নিয়মিত সাফাই কাজ প্রভৃতি ক্ষেত্রে যথেচ্ছই গাফিলতি রয়েছে।পুরচেয়ারম্যান সমর সাহা বলেন, রাজ্যে বিজেপি’র নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।এবারে বিধানসভা নির্বাচনে কাটোয়া কেন্দ্রেও বিজেপি’র প্রার্থী (কৃষ্ণ ঘোষ) জয়লাভ করেছেন।আমরা কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা হিসেবে অত্যন্ত আশাবাদী যে নতুন সরকার দাঁইহাট শহরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এগিয়ে আসবে।কাটোয়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি তাঁর নির্বাচিত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সর্বদা সচেষ্ট হবেন।একইসঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজে সকলের সহযোগিতাও প্রার্থনা করেছেন তিনি।
admin