মলয় সুর, চন্দননগর: ইঁটভাটাগুলি ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেই ইঁটভাটাগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও আধুনিকতার ভিড়ে এই ইঁট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইঁটভাটার মালিকরা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। বুধবার চন্দননগর নিত্য গোপাল স্মৃতি মন্দির প্রেক্ষাগৃহে হুগলি ডিস্ট্রিক্ট ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ৫১ তম সেমিনার আয়োজন করা হয়। এই বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি তাপস দাশগুপ্ত বলেন, আগের মতো ইঁট বিক্রি নেই। কাজের গতি অনেকটাই কমে গিয়েছে। এখন কংক্রিটের ইঁট বাজারে চলছে, এছাড়া ফ্লাই অ্যাশের ইঁট ব্যবহার করা হচ্ছে।এ রাজ্যে গঙ্গা সহ বিভিন্ন নদীর পাড়ের ইঁটভাটার পলিতেই ইঁট হয়। বাকি জায়গায় ইঁটভাটার কাঁচামালের উৎস কৃষিজমির মাটি। এই জেলাতে উন্নতমানের ইঁট তৈরি হয়। বর্তমানে পলিমাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এ জেলার ইঁটভাটাগুলি মাটিকেই আঁকড়ে ধরে রয়েছে। তাই বিভিন্ন নিচু জলা জায়গা থেকে মাটি কাটা হয়। প্রসঙ্গতে, এত কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হওয়ার দরুন জেলাতে ৩৫০টি ইঁটভাটা কমতে কমতে ১২০টিতে পৌঁছেছে। সবচেয়ে অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে ইঁটভাটার শ্রমিকদের নিয়ে। আগে ঝাড়খণ্ড, বিহার, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া থেকে জীবন-জীবিকার জন্য আদিবাসী বা সাঁওতালরা এখানে কাজ করতে আসতেন, এখন তাদের পাওয়া খুব দুষ্কর ব্যাপার। এখন পুরনো প্রযুক্তিতে কোনো ইঁটভাটা চলছে না। বাতাসে দূষণ ঠেকাতে জিগজ্যাগ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকারের 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পের ইঁটভাটা থেকে বাধ্যতামূলক ইঁট বিক্রি হচ্ছে । এদিন উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক সুমন কোলে, গোপাল শেঠ প্রমুখরা। ইঁটভাটাগুলিতে নতুন প্রজন্মের ছেলেরা ব্যাপক উৎসাহ প্রকাশ করছেন না।