তারেকের নতুন ইনিংসে ভারত বিদ্বেষ কমবে কি

তারেকের নতুন ইনিংসে ভারত বিদ্বেষ কমবে কি

ওঙ্কার মিত্র: না, আর কোনো সংশয় নেই। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিষ্কার হয়ে গেছে ২০৫ আসনের নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন খালেদা পুত্র ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেই  তিনি হিরো হয়ে গিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে অভিনন্দন বার্তা আসতে শুরু করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী, কংগ্রেস সভাপতি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও। ১৪ মাসের ভয়াবহ ইউনুস শাসন কাটিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে ফিরলেও ভারতের বিরুদ্ধে এই কয়েক মাসে সেখানে যে বিদ্বেষের বিষ ছড়িয়েছে তা তারেক জমানায় কাটবে কিনা সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। কারণ নির্বাচনে জামাত কম ৭১ টি আসন পেলেও নিজেদের অস্তিত্ব কায়েম করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রাক্তন মিত্র জাতীয় পার্টি ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১টি আসনেও জিততে পারেনি। আবার গণভোটে স্বীকৃতি পেয়েছে ইউনুসের প্রশাসনিক সংস্কারগুলি। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে যে এখন বাংলাদেশি জনগন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে তা এই নির্বাচনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে হাসিনার বন্ধু বলে পরিচিত ভারতও এখন বাংলাদেশিদের চক্ষুশূল।

গণ অভ্যত্থাণের বেশ কিছু দিন আগে থেকে বাংলাদেশ ঘুরে আসা আলিপুর বার্তার প্রতিনিধিরাও কিন্তু আঁচ করতে পারছিলেন বাংলাদেশিদের এই পরিবর্তন। ক্রমশ বদলে যাচ্ছিলো ভাষা, সংস্কৃতি, কথাবার্তার ধরণ। ভাষা আন্দোলনের গরিমা, বাঙালি সংস্কৃতির জায়গা  নিচ্ছিলো ধর্ম বিদ্বেষ। ফিকে হয়ে যাচ্ছিলো ভারতের বন্ধুতা। এটা হাসিনার ইন্টেলিজেন্স ব্যর্থতা নাকি তাকে উপেক্ষা করা তা আজ গবেষণার বিষয়। তবে হাসিনার উপর যে তাঁর জনগন আস্থা হারাচ্ছিল তা পরিষ্কার।
হাসিনার প্রতি ভারতের সমর্থন ও সাহায্য অব্যাহত থাকলেও সংখ্যালঘু হিন্দুরা তাতে নিশ্চিন্ত হয় নি। হাসিনার আমলেও হিন্দুদের সংখ্যা কমতে থেকেছে বাংলাদেশে। ভারত কিন্তু তবু পাশে থেকেছে তার প্রতিবেশীর। ওপার বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনে যেমন ভারত সাথ দিয়েছিল মানবাধিকারের খাতিরে তেমনই বুক দিয়ে রক্ষা করে রেখেছে তাদের পলাতক প্রধানমন্ত্রীকে।

কিন্তু এই মানসিকতা কি ভারতের প্রতি দেখাতে পারবেন জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করা তারেক রহমান, এটাই এখন ভারত বাংলাদেশের সব বাঙালির প্রশ্ন। এসব প্রশ্ন উঠছে, কারণ পাকিস্তান পন্থী বলে পরিচিত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র এবার বসতে চলেছেন ক্ষমতার কেন্দ্রে। ছোট হলেও জামাতের ভারত বিরোধী ছাত্র সংগঠন টিকে রইল রাজনীতিতে। তাদের তারেক কতটা সামলাতে পারবেন তা এখনও প্রমাণিত নয়। ভোটের গণনা চলাকালীন সময়েও বাদ গেল না সংখ্যালঘু নিপীড়ন। দিনাজপুরে এক হিন্দুর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হল। গণ ভোটে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ৬০ শতাংশ সমর্থন মিলেছে। ফলে উদার পন্থী সব ধারার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

তবু আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানের সখ্যতা বাঁচিয়েও নিশ্চয়ই ভারতকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক পথে হাঁটবেন তারেক রহমান। বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে ভারতের মত শক্তিশালী বন্ধুকে তিনি হারাবেন বলে মনে হয় না। সব অন্ধকারকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের আকাশে নতুন সূর্যোদয়ের এটাই শ্রেষ্ঠ পথ।