নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর, ১৯ ফেব্রুয়ারি : বি জে পি পার্টি ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে ভোট করছে। সেখান থেকে বাংলা বাদ নয়। নির্বাচন ধর্মীয় না হয়ে রাজনৈতিক হোক। বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কার্যকরী কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী। সেই সঙ্গে তিনি এদিন জোর করে ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সরব হন। তিনি জানান, দেশে ২২টি ভাষাতেই যে কেউ কথা বলতে পারেন।
এদিন অধীর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “বি জেপি পার্টি তো ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে ভারতবর্ষে ভোট করছে। তার সঙ্গে বাংলা আর পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দেবে? ধর্মীয় আবেগ এবং তার সঙ্গে বিভাজন এটাই বাংলার রাজনীতির এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছি। বাংলার মানুষকে বলবো, আপনাদের জীবনে আরও অনেক সমস্যা আছে। অনেক মৌলিক সমস্যা আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রুটি, রুজি সব কিছু আছে। নির্বাচন রাজনৈতিক হোক। নির্বাচন ধর্মীয় না হয়ে, নির্বাচন রাজনৈতিক হোক। নির্বাচন সাম্প্রদায়িক না হয়ে, নির্বাচন মানুষের পক্ষে-বিপক্ষে রায়ের মাধ্যমে পরিচালিত হোক।”
সাংবাদিকদের আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে অধীর চৌধুরী এদিন আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ নামক রাজ্যে বাংলা ভাষাতেই কথা বলবো। তার মধ্যে যদি কেউ হিন্দিভাষী হয়, হিন্দিতে কথা বলবে। তাদের মাতৃভাষা সেটা। হিন্দিতে কথা বলতেই পারে। এভাবে ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার তো কোনো মানে হয় না। এটা তো ভাষা সন্ত্রাসের কথা বলা হচ্ছে। কেউ যদি ইংরেজিতে বলে, অসুবিধার কি আছে? পশ্চিমবঙ্গে যারা খ্রিষ্টান আছে, অনেক অ্যাংলো ইণ্ডিয়ান আছে, যারা বড়ো বড়ো নেতা, তারা যদি ইংরেজিতে কথা বলে অসুবিধার আছে? ভাষা সন্ত্রাস করে লাভ কি আছে? এই ভাষাতেই আমাকে বলতে হবে কথা। এটা আরেক ধরনের সংকীর্ণতার রাজনীতি বলে আমি মনে করি। যে যাতে স্বচ্ছন্দ, সে সেই ভাষাতে কথা বলবে। কেউ সাঁওতালি ভাষায় কথা বলতে পারে। তার জন্য ট্রান্সলেটার থাকবে। অলচিকি ভাষা তো আমাদেরই ভাষা। ভারতবর্ষের যে কটি ভাষা আছে, ২২টি ভাষাতেই যে কেউ কথা বলতে পারে। শুধু বাংলা ভাষায় কেনো কথা বলবে? পশ্চিমবাংলায় কি শুধু বাঙালিরাই বাস করে? অবাঙালিরা বাস করে না?"