পশ্চিম তুরস্কে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ভবন ধস ইস্তাম্বুল ও আশপাশের প্রদেশেও অনুভূত কম্পন
তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার (২৭ অক্টোবর, ২০২৫) রাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত তিনটি ভবন ধসে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধসে পড়া ভবনগুলো আগের এক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (AFAD) জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল বালিকেসির প্রদেশের সিনদিরগি শহরে। স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে ৬.১ মাত্রার এই কম্পনটি ভূমির প্রায় ৫.৯৯ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়। কম্পনটি ইস্তাম্বুলসহ পার্শ্ববর্তী বুরসা, মানিসা ও ইজমির প্রদেশেও অনুভূত হয়।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, সিনদিরগিতে অন্তত তিনটি পরিত্যক্ত ভবন ও একটি দুইতলা দোকান ধসে পড়েছে। এসব ভবন আগের এক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। তিনি আরও জানান, আতঙ্কে পড়ে গিয়ে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিনদিরগির জেলা প্রশাসক দোগুকান কোয়ুনচু রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি, তবে আমরা বিস্তারিত মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয় টেলিভিশন হাবারতুর্কের খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর অনেক মানুষ আতঙ্কে বাড়ির বাইরে রাত কাটিয়েছেন, কারণ তারা ঘরে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের আগস্ট মাসেও সিনদিরগিতে একই মাত্রার (৬.১) একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে একজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। এরপর থেকেই বালিকেসির অঞ্চলটি একাধিক ছোট ভূকম্পনের মুখোমুখি হয়েছে।
তুরস্ক প্রধান ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। ২০২৩ সালে দেশটিতে ৭.৮ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন এবং ১১টি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশে হাজার হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই একই ভূমিকম্পে প্রতিবেশী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলেও প্রায় ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
admin