মলয় সুরঃ ঝাড়খণ্ড জেলায় মাইথন অবস্থিত। ধানবাদ থেকে ৪৮ কিমি দূরে অবস্থিত। এখানেই রয়েছে ডিভিসির সবচেয়ে বড় জলাধারটি। ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অন্যতম। এটি বরাকর নদীর উপর নির্মিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি ভ্যালি প্রকল্পের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই প্রকল্পটি করা হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ৬০,০০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মাইথন হাইডেল পাওয়ার স্টেশন। এই ধরনের ভূগর্ভস্থ পাওয়ার স্টেশন ভারতে প্রথম। বাঁধটি প্রায় ১৬৫ ফুট লম্বা। মাইথন বাঁধটি একটি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের উপর অবস্থিত। একটি সুন্দর নীল হ্রদ ও চারিদিকে দু'পাশে জঙ্গলে প্রকৃতির মাঝে কত কিছুই দেখার আছে। মাইথন বাঁধটির চারিদিকে পাহাড় ঘেরা তারই মাঝে বিসুদ্ধ স্ফটিক নীল জলরাশি। সেই জলে স্পীড বোট বা নৌকাবিহার চলছে। পর্যটকরা একপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছে। অপূর্ব সবুজ সৌন্দর্য দৃশ্য উপভোগ করেন পর্যটকরা। এছাড়া হ্রদের চারপাশে চওড়া রাস্তায় হাঁটতে পারেন। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা ভীষণ অভূতপূর্ব দৃশ্য তবে রাতের অন্ধকারে বন্যজন্তুরা ঘোরাফেরা করে, তাদের কবলে পড়াও বিচিত্র নয়। হ্রদের ধারে প্রচুর বাসপার্টি পিকনিক করে। এই মাইথন যাওয়ার রাস্তায় পড়ে বহু প্রাচীন মা কল্যাণেশ্বরী মন্দির। প্রতিদিন মাকে ভোগ দেওয়া হয়। অনেক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দির ঘিরে। ২০১১ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এখানে পুজো দিতে আসেন। এই মন্দিরের ভিতর বহু পুরনো পিপুল গাছে মনের মনস্কামনা পূরণের জন্য ঢিল বাঁধে। পরবর্তী পর্যায়ে মন বাসনা পূর্ণ হলে ঢিল খুলে আসতে হয়। এরই কিছুটা দূরে রয়েছে তোপচাঁচি ঝিল, একটি ছোট শহর। ধানবাদ থেকে গাড়ি বা অটো নিয়ে সহজেই যাওয়া যায়। এই ঝিলটি পরেশনাথ পাহাড়ের তলে অবস্থিত। এই ঝিলটি মনোরম ঐতিহাসিক স্থান, পাহাড়ের ঝর্ণা ও পাহাড় সংলগ্ন ঘন জঙ্গলে পশুদের বিচরণ ক্ষেত্র। ভাটিণ্ডা জলপ্রপাত ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলায় অবস্থিত। এটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ধানবাদ শহর থেকে ১৪-১৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক পাহাড়ী ঝর্ণা, বন এবং পাথরে এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়। একটি বিখ্যাত পিকনিকের জায়গা, বিশেষ করে শীতকালে এখানে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। এই জায়গাটির চারপাশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
কীভাবে যাবেন - হাওড়া থেকে সকালে ৬টা ১৫ মিনিটে ব্ল্যাক ডায়মন্ড ছাড়ছে। এছাড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস আছে। এছাড়া সড়কপথে ভলভো বা প্রাইভেট কারে বা বাসে করে ধানবাদ পৌঁছাতে পারেন। এরপর এখান থেকে অটো করে আশেপাশের অঞ্চল উত্তম কুমারের বাড়ী, রাম মন্দির, রবি ঠাকুরের সজহপাঠের ঊশ্রী নদীর ঝরণা ঘুরে দেখতে পারেন।