অপর্যাপ্ত কর্মী, পূর্ব বর্ধমানে খালি ‘হাত’ নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোটাই লক্ষ্য কংগ্রেসের
দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: হন্যে হয়েও বেশিরভাগ জায়গাতেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দলীয় কর্মীদের।এমতাবস্থায় শুধুমাত্র ‘হাত’ চিহ্নের ওপর নির্ভর করেই পূ্র্ব বর্ধমানে ঘুরে দাঁড়াতে সচেষ্ট হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেস।আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে।দীর্ঘদিন পর এরাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে এককশক্তির ওপর নির্ভর করেই ভোটযুদ্ধের ময়দানে শামিল হয়েছে জাতীয় কংগ্রেস।তবে, সর্বত্র দলীয় প্রার্থী দাঁড় করালেও বহু জায়গায় কর্মীদের দেখা পাওয়াটাই দুষ্কর।সক্রীয় কর্মীসংখ্যার অপ্রতুলতার কারণে বুথে বুথে, পাড়ায় পাড়ায় নির্বাচনী প্রচার নেই বললেই চলে।পূ্র্ব বর্ধমান জেলাজুড়েও কার্যত একইরকম পরিস্থিতি।নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরপরই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএম যেভাবে তেড়েফুঁড়ে প্রচারে নেমে পড়েছে তাদের ধারেকাছেই পৌঁছতে পারেনি কোনও রাজনৈতিক দলই।একটা শতাব্দী প্রাচীন দল হয়েও এরাজ্যে কংগ্রেসের দুরবস্থা প্রকট।ভোটযুদ্ধে নেমে দলীয় প্রার্থীদের সর্বত্র হন্যে হয়ে কর্মী খুঁজতে হচ্ছে।নির্দিষ্ট কিছু পকেট ছাড়া সক্রীয় কর্মীর অভাবে বহু জায়গায় কোনওরকম দেয়াললিখন চোখে পড়েনি।দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে মিটিং-মিছিলও নেই।এসবের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় দলীয় প্রার্থী নিয়ে কিছু কিছু কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।পূ্র্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনের মধ্যে কয়েকটি জায়গাতেও দলীয় কর্মীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও তা অবশ্য বেশিদূর গড়ায়নি।পূ্র্ব বর্ধমানের ভাতাড় বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ধূর্জটিবিজয় মাজি।৩১ মার্চ তিনি জনাকয়েক কর্মী-সমর্থক সঙ্গে নিয়ে ভাতাড়ে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়টি খুলেছেন।কাটোয়া, পূর্বস্থলী উত্তর, বর্ধমান দক্ষিণ প্রভৃতি কেন্দ্রের কয়েকটি জায়গায় কিছু কংগ্রেস কর্মীদের কিছু কিছু তৎপরতা চোখে পড়লেও জেলাজুড়ে কংগ্রেসের হাল এককথায় হতাশাজনক বলাই চলে।ভাতাড়ের প্রবীণ কংগ্রেস সমর্থক তুহিন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দু’দশক পর কংগ্রেস তার একক শক্তি নিয়ে এরাজ্যের সর্বত্র প্রার্থী দিয়েছে।এখনও কিছু মানুষের হৃদয়ে কংগ্রেস থেকে গিয়েছে।এতদিন কংগ্রেসের চিহ্নটা(হাত প্রতীক) পায়নি তাই মানুষ ভোটও দিতে পারেনি।এবার মানুষের কাছে কংগ্রেসের চিহ্নটাকে নিয়ে গিয়ে পুনরায় পরিচিত করানোর সুযোগ এসেছে।কিছু ভোটতো নিশ্চয়ই পাব এবং এটাই কংগ্রেসের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা হবে।জেলা কংগ্রেস সভাপতি ধূর্জটিবিজয় মাজি সর্বস্তরে দলীয় কর্মীসংকটের কথা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েই বলেন, সুনির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত।দেশের সর্বধর্ম মানুষের সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে অক্ষুন্ন রাখার লড়াইয়ে কংগ্রেস সর্বদাই সচেষ্ট।আমরা সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও এই বিধানসভা নির্বাচনে মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে কংগ্রেসের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করব।তিনি আরও বলেন, ৪ এপ্রিল আমি মনোনয়নপত্র দাখিলের পর জেলাজুড়ে সাধ্যমতো প্রচারের কাজে নেমে পড়ব।সেইসঙ্গে আমাদের জেলার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে কোনও কেন্দ্রীয় নির্বাচনী প্রচারসভা আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।সেই জনসভায় কোনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাতে উপস্থিত থাকেন তার জন্য প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির কাছে আবেদনও করা হবে। ছবি: ভাতাড়ের কংগ্রেস প্রার্থী ধূর্জটিবিজয় মাজি।
admin