বর্ধমান শহরে দিবালোকে পরপর দুঃসাহসী ঘটনায় সাধারণের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে
দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: প্রথমে শাসকদলের রাজ্য ‘হেভিওয়েট’ নেতার দামি স্মার্টফোন চুরি হয়ে গেল।তারপর চারদিনের মাথায় চেম্বারের মধ্যেই এক হাতুড়ে চিকিৎসক খুন।দু্’টি ক্ষেত্রেই ঘটনাস্থল জেলা পুলিশ-প্রশাসনিক সদর দপ্তরের নাকের ডগায়।বর্ধমান শহরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রকাশ্য দিবালোকে পরপর দুঃসাহসী ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কার্যত প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।যদিও পুলিশ-প্রশাসন প্রতিটি ঘটনার পরপরই যথাবিহিত তদন্তে নেমে গা ঘামালেও ছাপোষা সাধারণ মানুষগুলির আতঙ্ক কিন্তু কিছুতেই পিছু ছাড়ছেই না।তাদের আশঙ্কা, বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গেই তালমিলিয়ে রাজ্যজুড়ে নানাক্ষেত্রে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যও বৃদ্ধি পাবে।জঙ্গি কার্যকলাপে একসময় বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ের নাম জড়িয়ে পড়েছিল।তারপর চোরাচালান সহ নানাবিধ বেআইনী কার্যকলাপ নিয়ে প্রায়শই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয় বর্ধমান।মঙ্গলবার বর্ধমান জেলা সদরে জনবহুল এলাকায় ভরদুপুরে হাড়হিম করা খুনের ঘটনা নিঃসন্দেহে আরও একবার শহরবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে।এদিন শহরের বাদামতলা এলাকায় এক হাতুড়ে চিকিৎসক তাঁর নিজের চেম্বারের মধ্যেই আক্রান্ত হয়ে মারা য়ান।মৃতের নাম রাজা ভৌমিক (৪৬)।শহরেরই বাসিন্দা ওই চিকিৎসক সাধারণ মানুষের কাছে ‘হাড়ের ডাক্তার’ রূপে পরিচিতি ছিলেন।শহরের পার্শ্ববর্তী শক্তিগড় থানার আমড়া এলাকার বাসিন্দা জীবন রুইদাস নামে এক ব্যক্তি সশস্ত্র অবস্থায় ওই চিকিৎসককে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ।চোখের পলকে ঘটনার পরপরই জীবন দ্রুতবেগে চেম্বার ছেড়ে বেরিয়ে বর্ধমান থানায় গিয়ে নাকি আত্মসমর্পণ করেন।এর কিছুক্ষণ পর বর্ধমান থানার পুলিশ অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে চেম্বার থেকে ওই চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে এবং দেহটি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।সেখানে দেহটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।অন্যদিকে, ‘এসআইআর’ রূপায়ণের নামে জেলার ‘মূলবাসী’ আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রায় দশ হাজার মানুষও পদে পদে হয়রানির শিকার, এই অভিযোগ তুলে বর্ধমান শহরে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করছিল তৃণমূল কংগ্রেস।সেই অনশন মঞ্চেই সুযোগ বুঝে রাজ্যের এক ‘হেভিওয়েট’ আদিবাসী নেতার স্মার্টফোন হাতিয়ে চম্পট দিল এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবক।পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের এসসি ও এসটি সেলের পক্ষ থেকে বর্ধমান সদর শহরের কেন্দ্রস্থলে মঞ্চ বেঁধে টানা অনশন কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল।দলের আদিবাসী সেলের রাজ্য শীর্ষ নেতা তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু নিজেই অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন।টানা প্রতিবাদ কর্মসূচির সপ্তম দিন শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে বছর বাইশের এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবক মঞ্চে উঠে দেবু টুডুর স্মার্টফোনটি চুরি করে চম্পট দেয়।অনশন মঞ্চে বসেই দেবু টুডু সেদিন ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমার পাশেই মোবাইল ফোনটি রাখা ছিল।অচেনা ছেলেটি মঞ্চে উঠে বীরসা মুণ্ডা, সিধু, কানুর ছবিতে প্রণাম করে।তারপর একফাঁকে আমার মোবাইল ফোনটি চুরি করে পালিয়ে যায়।স্মার্টফোনে বিভিন্ন বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।শাসকদলের প্রতিবাদ মঞ্চেই এরকম দুঃসাহসী চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত।তারা নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে আরও একবার আঙুল তুলেছে।এমনকি, নিচুতলার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরাও এব্যাপারে পুলিশের ঢিলেঢালা নজরদারি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।এদিকে, সোমবার বিকেলে ওই প্রতিবাদ মঞ্চে রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ উপস্থিত হয়েছিলেন।তারপর দলীয় অনশন কর্মসূচিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
admin