তপন চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর: উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উদযাপিত হলো বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। ৩৫ নং বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন তিনি।
স্মৃতির সরণিতে প্রাক্তন ছাত্র কৃষ্ণ কল্যাণী
এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিধায়ক। তিনি গর্বের সাথে স্মরণ করেন যে, তিনিও এই বিদ্যালয়েরই একজন প্রাক্তন ছাত্র। ছাত্রজীবন থেকে শিল্পপতি এবং পরবর্তীকালে বিধায়ক হওয়ার যাত্রাপথের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমি বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণ করেছি, বহু শিল্প কলকারখানা দেখেছি। কোথাও একটি পণ্য তৈরি হয়, কোথাও বা চারটি। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট হলো আমার এই বিদ্যালয়। কারণ এখান থেকেই তৈরি (Manufacture) হয় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, শিক্ষক এবং আইএএস অফিসাররা।"
মোবাইল সংস্কৃতি ও মাঠ বিমুখ প্রজন্ম নিয়ে উদ্বেগ
বর্তমান ডিজিটাল যুগের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েও ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক করেন বিধায়ক। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, "আগে করোনেশন ও বিদ্যাচক্র স্কুলের মধ্যে ফুটবল বা ক্রিকেট ম্যাচ হলে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের মতো উত্তেজনা তৈরি হতো। কিন্তু আজ মোবাইল আর ইন্টারনেটের যুগে সেই উন্মাদনা হারিয়ে গেছে। রিল (Reel)-এর চেয়ে রিয়েল (Real) লাইফ বা বাস্তব জীবনে বিনোদন অনেক বেশি, যা আজকের প্রজন্ম বুঝতে পারছে না।"
এদিন অনুষ্ঠানে বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব চঞ্চল ব্যানার্জি, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোবিন্দ কল্যাণী এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্রদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এরপর ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত নাচ ও গানের মাধ্যমে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ। গোটা অনুষ্ঠানটি ঘিরে স্কুল প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।