সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং : শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলা ও সমগ্র সুন্দরবন এলাকা। প্রায় তিন থেকে পাঁচ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবনের ঊনিশটি ব্লকে কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়। যার মধ্যে ক্যানিং, বাসন্তী ও গোসাবা,জীবনতলা এলাকায় বহু মানুষ বহুতল ও ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নেন। দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয় বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে, যা কলকাতা থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে।উত্তর ২৪ পরগনার টাকি থেকে ২৬ কিমি দূরের এবং ক্যানিং থেকে ১৪২ কিমি।আর রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা প্রায় ৪.৯ বলে অনুমান করা হচ্ছে।আর এই কম্পনের সময় শুক্রবারের জুম্মার নামাজ চলছিল বিভিন্ন মসজিদে। হঠাৎ কম্পন অনুভূত হওয়ায় বহু জায়গায় নামাজ বন্ধ করে মসজিদ থেকে আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন মানুষজন।তৈরি হয় হুড়োহুড়ি পরিস্থিতি। এমনকি ভূমিকম্পের জেরে ক্যানিং মহাকুমা হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী মাতৃমা হাসপাতালের রুোগী, রুোগীর পরিজনসহ হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে দেখা যায় ক্যানিং মহাকুমা হাসপাতালের পুরানো বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে । অন্যদিকে, বাসন্তীর আঠারোবাকি বড়ো মসজিদের গেট ভেঙে পড়েছে এবং মসজিদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ভূমিকম্পের ফলে রাজ্যজুড়ে মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলেও সুত্রের খবর।
তবে সুত্রের খবর ২০১৫ সালের এপ্রিলে ঘটে যাওয় ভূমিকম্পের পর ২০২৬ এর মতো এতো বেশি ঝটকা হয়নি।