রবীন দাস :কাকদ্বীপ: মাধ্যমিক পরীক্ষা মানেই ছাত্রছাত্রীদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই পরীক্ষাকে সামনে রেখে চরম প্রতিকূলতাকেও হার মানিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌসুনি দ্বীপের পড়ুয়ারা। এ বছর মৌসুনি কো-অপারেটিভ হাইস্কুলের মোট ১৪৪ জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্র নিজ দ্বীপে নয়। প্রতিদিন ভোরবেলায় চিনাই নদী পেরিয়ে নৌকায় চড়ে যেতে হচ্ছে রাজনগর বিশম্ভর হাই স্কুলে, সেখানেই বসছে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্র।
নদী, নৌকা আর দূরত্ব—এই তিনের সঙ্গে লড়াই করেই পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে মৌসুনির ছাত্রছাত্রীদের। অনেকেই ভোরের অন্ধকারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ছে, কেউ বাবা-মায়ের সঙ্গে, কেউ বা বন্ধুদের হাত ধরে। কখনও কুয়াশা, কখনও হালকা ঢেউ—সবকিছুকে উপেক্ষা করেই এগিয়ে চলেছে তাদের পড়াশোনার স্বপ্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বছরের পর বছর ধরেই মৌসুনির ছাত্রছাত্রীদের এমনভাবেই নদী পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়। তবুও তাদের মনোবল অটুট।
এদিন ভোর থেকেই চিনাই নদীর ঘাটে চোখে পড়ে ব্যস্ততার ছবি। পরীক্ষার্থীদের নিয়ে একের পর এক নৌকা ছুটে চলেছে রাজনগরের উদ্দেশে। নৌকার মধ্যে বই, কলম, প্রবেশপত্রের পাশাপাশি চোখে পড়ছে উত্তেজনা আর আশার মিশ্র অনুভূতি। অনেক অভিভাবকই সন্তানদের সঙ্গে নৌকায় উঠে পড়ছেন, যেন শেষ মুহূর্তে একটু সাহস জোগাতে পারেন। ছাত্রছাত্রীরা বলছে, কষ্ট হলেও তারা পরীক্ষার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নামখানা, কাকদ্বীপ ও মৌসুনি-সহ বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিশেষ উদ্যোগ চোখে পড়ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ ব্যানার লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে। পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহ জানাতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা।
পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে সকাল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন গোলাপ ফুল ও জলের বোতল, কলম। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা পড়ুয়াদের মুখে হাসি ফোটাতে এই ছোট্ট প্রয়াস বলে জানিয়েছেন কাকদ্বীপ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী প্রদ্যুৎ কুমার সাহা,অনেক পরীক্ষার্থীই বলছে, পরীক্ষার আগে এমন শুভেচ্ছা পেয়ে তাদের মন অনেকটাই হালকা হয়ে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, যানজট এড়াতে এবং পরীক্ষার্থীদের সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে বিনামূল্যে টোটোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ। যাতে কোনও পরীক্ষার্থী যানজট বা যাতায়াত সমস্যার কারণে পরীক্ষায় দেরি না করে পৌঁছতে পারে, সে বিষয়েই জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরীক্ষাকে নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে একাধিক ব্যবস্থা। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে,
এই বিষয় নিয়ে মৌসুমী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তিনি জানান মৌসুমীর দ্বীপ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ তবে যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা, কঠোর পরিশ্রম করেছে। নদী পেরিয়ে যাতায়াতের সমস্যা না হয় সেদিকে কথা মাথায় রেখে আমরা পরীক্ষার্থীদের জন্য দুইটি অতিরিক্ত নৌকোর ব্যবস্থাও করে রেখেছি যথেষ্ট কোন পরীক্ষার্থীর কোন অসুবিধা না হয় এমনকি সর্বদাই আমরা সব পরীক্ষা কেন্দ্র গুলির দিকে বিশেষ নজর রেখেছি কোন কিছু অসুবিধা সম্মুখীন যেন না কোন পরীক্ষার্থীর হয়।।