শান্তিনিকেতনে পালিত হল গান্ধীপূর্ণ্যাহ

শান্তিনিকেতনে পালিত হল গান্ধীপূর্ণ্যাহ

২৪ ফাল্গুন ১৪৩২, মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) শান্তিনিকেতনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল গান্ধীপূর্ণ্যাহ। এদিন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও সকাল থেকেই আশ্রম প্রাঙ্গণে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ও শান্ত পরিবেশে দিনটির সূচনা হয়। প্রার্থনা, সমবেত সংগীত ও স্মরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। আশ্রমের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আশ্রমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রার্থনা সংগীত, মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এবং তাঁর জীবনদর্শন ও আদর্শ স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা মহাত্মা গান্ধীর সত্য, অহিংসা ও মানবতার দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, গান্ধীজির চিন্তাধারা শুধু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রেই নয়, বর্তমান সমাজজীবনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর দেখানো পথ আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।
শান্তিনিকেতনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে অত্যন্ত সাদামাটা কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে এই দিনটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে গান্ধীজির আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। নতুন প্রজন্মকে তাঁর চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত করানোর লক্ষ্যেই প্রতিবছর এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়ে থাকে।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, গান্ধীপূর্ণ্যাহ কেবল একটি স্মরণ দিবস নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও মানবতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তিনি আরও বলেন, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন চত্বরে প্রতি মাসেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকরা একসঙ্গে এই উদ্যোগে অংশ নেন এবং সমগ্র আশ্রম চত্বরকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে কাজ করেন।
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, তেমনই গান্ধীজির স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার আদর্শও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে শান্তিনিকেতনে প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় গান্ধীপূর্ণ্যাহ পালন করা হয়ে থাকে।