সুভাষ চন্দ্র দাশ,জীবনতলা -চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়নি। একজন কিংবা দুজন নয়,ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকায় প্রায় ৩৩ হাজার নাম বাদ !!এই নামের তালিকায় নব্বই শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন রয়েছেন।ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। এসআইআর এর নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে,বৈধ ভোটারের নাম কেটে বাদ দেওয়া হচ্ছে!বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনই অভিযোগ তুলে শুক্রবার খোদ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নামে জীবনতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের একাধিক মানুষজন। যাঁদের নেতৃত্ব দেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লা।এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
এদিন সকালে বিধায়ক সওকত মোল্লার নেতৃত্বে বেশকিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন জীবনতলা থানায় হাজীর হয়ে নির্বাচন কমিশনারের নামে রীতিমতো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লা জানিয়েছেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির দালালি করছে। পরিকল্পিত ভাবে নাম কেটে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের নাম কেটে বাদ দিয়ে বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইছে দালাল নির্বাচন কমিশন। ১৯৮০ সালে কিংবা ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে,এই মাটিতেই জন্ম।এসআইআর এ সমস্ত বৈধ্য কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, তিনদিন আগে ৩৩ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়,সংখ্যালঘু দরিদ্র মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচন কমিশন বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইছে। বাংলার মানুষ সেটা হতে দেবে না। জ্ঞানেশ কুমারের কাছে প্রশ্ন ‘দেখে দেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদারের মানুষের নাম কেটে কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে?’এই জবাব আগামী দিনে দিতেই হবে।তাছাড়া নির্বাচন কমিশন সফল হতে পারবে না। অভিষেক ব্যানার্জীর সেনাপতিত্বে চতুর্থ বারের জন্য বাংলার মসনদে মুখ্যমন্ত্রীর আসন অলঙ্কৃত করবেন মমতা ব্যানার্জী।’
অন্যদিকে সওকত মোল্লার এমন কার্য্যকলাপ কে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা সঞ্জয় নায়েক বলেছেন, ‘সওকত মোল্লা কয়েকজন কে নিয়ে জীবনতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।তাদের নাম বাদ যেতে পারে সেই আতঙ্কে।তিনি থানায় গিয়ে নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমার এর নামে এফআইআর করছেন!এটা মূর্খামির কাজ।যাঁরা ল মেকার,তাঁরা কি সমস্ত কিছুই ভুলে গিয়েছেন?তাঁরা কি ভাবে আইন ,সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে!যাঁদের কে নিয়ে গেলেন এফআইআর করতে,তাঁরা কি ভাবে জানলেন,ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে?সওকত মোল্লা বা কিভাবে বলছেন ৩৩ হাজার নাম বাদ যাবে।কমিশন কর্তৃক এখনও পর্যন্ত চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়নি। থানায় গিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের নামে এফআইআর করছেন!জ্ঞানেশ কুমারের নামে কি এফআইআর করা যায়?যে পুলিশ অফিসার এফআইআর নিচ্ছেন,তিনি কতটা দলদাস?কতটা ভীতু?আগে ওই অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করা উচিত।বাংলায় যেখানে চোর,গুন্ডা,তোলাবাজ,ধর্ষনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর নিতে অস্বীকার করে পুলিশ। সেই পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসের দলদাসে বশীভূত হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর করছে!এটা বাংলার লজ্জা। সমগ্র দেশের লজ্জা।’