আত্মঘাতী প্রধান করনিক কাঠগড়ায় বিডিও

আত্মঘাতী প্রধান করনিক কাঠগড়ায় বিডিও

নিজস্ব প্রতিনিধি,সিউড়ি - অনিয়ম যখন নিয়মে পরিণত হয় তখন মানসিক যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় । ঠিক সেরকম ঘটনার চিত্র ফুটে ওঠে খয়রাসোল ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরের প্রধান করণিক অরূপ পাঁজার আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে । ২৯ মার্চ রাত্রি প্রায় একটা নাগাদ খয়রাসোল ব্লক অফিস থেকে কাজ সেরে সিউড়ি ডাঙ্গালপাড়া বাড়ি ফেরে । এরকম ঘটনা হামেশাই ঘটে চলছিল । এদিন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে নিজের বাড়িতে ৩০ মার্চ সকালে সকলের অগোচরে গভীর কুঁয়োর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে । খবর পেয়ে স্থানীয় সিউড়ি থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে । খয়রাসোল বিডিও-র শাস্তির দাবিতে পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখায় । পরিবারের বক্তব্য শারীরিকভাবে স্নায়ু ও সুগার রোগে আক্রান্ত ছিল ।তাস্বত্তেও অফিসের নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দিয়ে অনির্দিষ্টসময় পর্যন্ত বিডিওর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বাড়ি যাওয়ার অনুমতি ছিল না । ২৯ মার্চ দিনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেও সময়ে মেলে নি ছুটি এমনকি খয়রাসোল ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ডঃ সৌমেন্দু গাঙ্গুলি ফাইল ছুড়ে তার মুখে মারে বলে মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ । ইতিপূর্বেও একবার ব্লক অফিসের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল । ৩০ মার্চ খয়রাসোল ব্লক অফিসে মৃতের সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া লক্ষনীয় । কাজে মনোনিবেশ করতে না পারলেও চাপ যুক্ত অবস্থায় রয়েছে । যদিও ক্যামেরার সামনে সরাসরি কেউ মুখ খুলতে নারাজ । ব্লক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অফিসার সন্দীপকুমার পাল অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বলে, "অরূপবাবু শান্তশিষ্ট সাদাসিধে ছিল । তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা সকলেই শোকাহত । পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি ।" তবে আসেপাশে চলছে নানান গুঞ্জন । পাড়ায় সমাধান প্রকল্পের রিপোর্ট সহ অবৈধ বিল পাস করা নিয়ে চাপ সৃষ্টি চলছিল । তিনি সহমত পোষণ না করায় এই বিপত্তি বলে ঠিকাদার মহলে কানাঘুষা চলছে । খয়রাসোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অসীমা ধীবর সরাসরি বিডিওর দিকে আঙ্গুল তোলে বলে, "অরূপবাবু বিডিওর মানসিক অত্যাচারের শিকার । গত ছয়মাস যাবৎ ব্লক অফিসের নজর ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই বিডিওর অফিসে পৌঁছানোর সময় সহ সমস্ত চিত্র সামনে আসবে ।" খয়রাসোল ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ডঃ সৌমেন্দু গাঙ্গুলির সঙ্গে এইবিষয়ে ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু রিং হলেও তিনি ফোন ধরেননি।