বাংলার ব্যতিক্রমী রথযাত্রা

বাংলার ব্যতিক্রমী রথযাত্রা

পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র ভারতে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয় আষাঢ় মাসে। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। হাওড়া জেলার আমতা থানার অন্তর্গত জ্যোৎকল্যাণ- সরিয়ালা গ্রামে চৈত্র মাসে পালিত হয় রথযাত্রা উৎসব। তবে এটি মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের রথ নয়, এখানে রাধা-গোবিন্দের রথযাত্রা পালিত হয়। আজ থেকে ২৫০ বছর আগে এই গ্রামের জমিদার হৃদয় অধিকারী তার নিজের বাড়িতে এই রথযাত্রার সূচনা করেন চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে। যার জন্য রথের পরিচিতি চৈত্রের রথ হিসাবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণিমা তিথি বৈশাখ মাসে পড়লে ,তখন বৈশাখ মাসেও পালিত হয় এই রথযাত্রা উৎসব। সেজন্য এই রথযাত্রাকে বৈশাখী রথও বলা হয়। এলাকায় এই রথযাত্রা অধিকারী বাড়ির রথযাত্রা বলেই বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। আজও অধিকারী পরিবার বংশ পরম্পরায় এই রথযাত্রা অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালন করে আসছে। এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করেই এলাকাটি রথতলা নামে পরিচিত। অধিকারী পরিবারের চৈত্র মাসের এই রথযাত্রা হাওড়া জেলার মধ্যে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা বলেই মনে করেন এই পরিবারের বর্তমান সদস্য সায়ন অধিকারী। তাঁর কথায় জানা যায়, পূর্বপুরুষ জমিদার হৃদয় অধিকারী নদীয়া থেকে
কোষ্ঠী পাথরের রাধা-গোবিন্দ মূর্তি নিয়ে আসেন নিজের বাড়ি তে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আর তা আনা হয়েছিল ঘোড়ায় টানা রথ-এ করে। বাড়িতে এই মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চৈত্র মাসের পূর্ণিমায়‌। আর মন্দির প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে হৃদয়বাবু শুরু করেছিলেন রথযাত্রা উৎসব চৈত্র পূর্ণিমায়। কথিত আছে, এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন গোটা গ্রামের চারপাশে ঢাক-ঢোল বাজানো হত। আর ঢাকের শব্দ  যতদূর যেত, ততদূর পর্যন্ত গ্রামবাসীরা আমন্ত্রিত থাকতো এই রথযাত্রায় মধ্যাহ্ন ভোজের জন্য। এখানে রথের সামনে দুটি ঘোড়া আছে, যার একটির কানকাটা এবং অপরটির জিভ কাটা। শোনা যায়, হৃদয় বাবু নদীয়া থেকে যখন ঘোড়ায় টানা রথ -এ করে রাধা-গোবিন্দের মূর্তি নিয়ে আসছিলেন তার বাড়ির উদ্দেশ্যে, তখন মাঝপথে ঘোড়া দুটি এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল যে গাড়ি আর সামনের দিকে এগোতে পারছিলনা। সেই সময় রথের সারথী একটি ঘোড়ার কান এবং অন্যটির জিভ কেটে দেয়। আর সেই যন্ত্রনায় তৎক্ষণাৎ ঘোড়া দুটি পুনরায় ছুটতে শুরু করে। সেই দৃশ্য আজও রথের সামনে তুলে ধরা আছে। অধিকারী পরিবারের ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রায় সোজা রথ অনুষ্ঠিত হয় চৈত্র পূর্ণিমায় এবং উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় আট দিন পর অর্থাৎ নবম দিনে।