বিজেপি কর্মীদের গ্রামছাড়া ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগ, নানুর থানায় বিক্ষোভ বিজেপির

বিজেপি কর্মীদের গ্রামছাড়া ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগ, নানুর থানায় বিক্ষোভ বিজেপির

নানুর ; বিধানসভা ভোটের আবহে ফের উত্তপ্ত বীরভূমের নানুর। বিজেপি করার ‘অপরাধে’ বিজেপি নেতাকর্মীদের গ্রামছাড়া, টোটো চালাতে বাধা এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার নানুর থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন নানুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী খোকন দাস-সহ দলের নেতা-কর্মীরা। পরে থানাও ঘেরাও করা হয়।
অভিযোগ, নানুরের ২ নম্বর মণ্ডলের এসটি মোর্চার সভাপতি শিবলাল সরেন, যার বাড়ি সন্তোষপুর গ্রামে, তিনি প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে টোটো নিয়ে নানুর থানার অন্তর্গত সাওতা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল নেতা সাইফুল শেখ তাঁকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, শিবলাল সরেনকে বলা হয়, “আজ থেকে টোটো লাগবে না। আবার টোটো না লাগানো দেখতে পাই। ভোটের দিন গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেব।” এই হুমকির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
এখানেই শেষ নয়, বিজেপির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নানুরের কুমিরা গ্রামের সক্রিয় বিজেপি কর্মী করি দাসকেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভয় দেখিয়ে তাঁর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ভোটের মুখে একের পর এক এই ধরনের হুমকির ঘটনায় বিজেপি শিবিরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
এই দুই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি নেতা-কর্মীরা নানুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন নানুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী খোকন দাস। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় বিজেপি করলেই কর্মীদের ওপর লাগাতার হুমকি, ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে বিরোধী রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি বিজেপির।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিজেপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ভোটের আগে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। তাই প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।