বিপজ্জনক প্রবণতা! রিলস বানাতে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে জলে তলিয়ে গেলেন শিবপুরের যুবক
'ট্রেন্ডিং'-এর বিপজ্জনক প্রবণতা! রিলস বানাতে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে জলে তলিয়ে গেলেন শিবপুরের যুবক। অভিযোগ, বন্ধুদের বারণ উপেক্ষা করেই গঙ্গায় ‘ড্রাইভ’ দিয়ে রিলস বানাতে গিয়ে জলে তলিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। বুধবার দুপুরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। নিখোঁজ যুবকের নাম শেখ মোহম্মদ তৌহিদ আক্রম ওরফে কৈয়ফি। তাঁর বাড়ি হাওড়ার শিবপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে চা খেতে বেরিয়েছিলেন কৈয়ফি। রামকৃষ্ণপুর ঘাটে পৌঁছে গঙ্গায় নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু বিপদ হতে পারে আশঙ্কা করে বন্ধুরা তাঁকে একাধিকবার জলে নামতে বারণ করেন। অভিযোগ, সেই বারণ উপেক্ষা করেই আচমকা গঙ্গায় ঝাঁপ দেন কৈয়ফি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বেশ কিছুক্ষণ জলে সাঁতার কাটার পর ঘাটের চেন ধরে পাড়ে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু প্রবল স্রোতের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপরই তাঁকে ধীরে ধীরে জলে তলিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে গঙ্গায় তল্লাশি শুরু করে। রিভার ট্রাফিক পুলিশ এবং স্থানীয় থানার পুলিশও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। সন্ধ্যে পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের সন্ধান মেলেনি। গঙ্গায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় যুবক মুকেশ গুপ্তা বলেন, ‘‘আমরা যতদূর শুনেছি, দু’-তিনজন যুবক বৃষ্টির মধ্যে রিলস বানাচ্ছিল। একজন ভিডিও করবে এবং বাকিরা জলে ঝাঁপ দিয়ে লঞ্চ ধরবে—হাওড়া-হুগলি এলাকায় এই ধরনের রিলস এখন ট্রেন্ডিং। সেই চেষ্টাতেই ওই যুবক লঞ্চ ধরতে জলে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু লঞ্চটি ধরতে পারেনি।’’ তিনি আরও জানান, ‘‘এরপর সে ফেরার জন্য জেটি বা ফেরিঘাটের দিকে আসার চেষ্টা করে। সেখানেও সফল হয়নি। পরে কাছের স্নানঘাটের দিকে আসার চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি। ঘাট এবং স্নানঘাটের মাঝামাঝি জায়গায় শেষবার তাকে দেখা যায়। বন্ধুরা তাকে অনেকবার বারণ করার চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় কয়েকজন যুবকও উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু গঙ্গার প্রবল স্রোতের কারণে তা সম্ভব হয়নি।’’ এই ঘটনার পর রিলস তৈরির নামে ঝুঁকিপূর্ণ কাণ্ডকারখানা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। মুকেশের কথায়, ‘‘কোথায়, কীভাবে এবং কী বিষয় নিয়ে রিলস বানাচ্ছি, সে বিষয়ে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতির সঙ্গে কোনওভাবেই খেলা করা যায় না। প্রকৃতি নিজের নিয়মেই চলে।’’
স্থানীয়দের অনুমান, যুবকটি সাঁতার জানলেও দীর্ঘক্ষণ জলে থাকার ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারেন। ফুল ড্রেসে জলে নামায় শরীর ভারী হয়ে যাওয়া, প্রবল স্রোত এবং পাড়ে ফিরতে না পারার কারণে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি জলে তলিয়ে গেলেন তা উদ্ধার ও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
admin