‘খাল পরিষ্কার হয়, জল নামে না’, কোনা খালিয়ায় ক্ষোভে পথ অবরোধ বাসিন্দাদের

‘খাল পরিষ্কার হয়, জল নামে না’, কোনা খালিয়ায় ক্ষোভে পথ অবরোধ বাসিন্দাদের

খাল রয়েছে, ড্রেনও রয়েছে—তবু জল নামছে না। বর্ষা এলেই দিনের পর দিন জলমগ্ন হয়ে থাকছে রাস্তা থেকে বাড়িঘর। প্রশাসনের আধিকারিকরা এসে পরিস্থিতি দেখে গেলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত সোমবার ক্ষোভে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে নামলেন হাওড়ার কোনা খালিয়া এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরোধের পর লিলুয়া থানার পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনা খালিয়া এলাকায় জল জমার সমস্যা নতুন নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন জায়গায় জল দাঁড়িয়ে যায়। ভারী বৃষ্টি হলে সেই জল ঢুকে পড়ে বাড়ির ভিতরেও। দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকায় একদিকে যেমন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্গন্ধ ও নোংরা জলের কারণে বাড়ছে দুর্ভোগ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে এলাকার খাল ও নিকাশি ব্যবস্থা। তাঁদের দাবি, খাল পরিষ্কারের কাজ হলেও সেই কাজের পর তোলা আবর্জনা অনেক সময় খালের পাড়েই ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে জল চলাচলের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় জমা জল বেরোতে পারছে না। এদিন রাস্তা অবরোধ করে স্থানীয়রা দ্রুত জল সরানো এবং নিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান। অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লিলুয়া থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। পুলিশের আশ্বাসের পর প্রায় এক ঘণ্টা পরে অবরোধ তুলে নেন বাসিন্দারা। তবে অবরোধ উঠলেও সমস্যার সমাধান না হলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, প্রতি বছর বর্ষায় একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সাময়িকভাবে পাম্প চালিয়ে জল সরানো নয়, খাল ও ড্রেনের সংস্কার করে গোটা নিকাশি ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা বাণী দলুইয়ের অভিযোগ, খাল পরিষ্কারের পর তোলা নোংরা খালের পাশেই ফেলে রাখায় জল বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, জল জমে থাকায় দুর্গন্ধে এলাকায় থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং শিশুরাও অসুস্থ হচ্ছে। সমস্যা সমাধান না হলে প্রতিদিন অবরোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।আরেক বাসিন্দার দাবি, জল জমে থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি বাড়ির ভিতরেও সাপ ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ। বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের জল পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তাঁর কথায়, প্রতি বছর একই পরিস্থিতি হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী হাজরার অভিযোগ, দীর্ঘদিন জল জমে থাকায় বহু বাড়িতে বিছানাপত্র ও আসবাবপত্র ভিজে যাচ্ছে। ঘরের জিনিসপত্র বাঁচাতে অনেককে উঁচু জায়গায় তুলে রাখতে হচ্ছে। বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর।বাসিন্দাদের বক্তব্য, বর্ষা এলেই যদি জলযন্ত্রণা এড়াতে ফের রাস্তায় নামতে হয়, তাহলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। দ্রুত নিকাশি পরিকাঠামোর স্থায়ী সংস্কার না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।