হেতাল ঝোঁপের মধ্যে লাজুক বাঘের ছানা

হেতাল ঝোঁপের মধ্যে লাজুক বাঘের ছানা
সুভাষ চন্দ্র দাশ,সুন্দরবন- পর্যটন মরশুম শেষেও বাঘের আনাগোনা বেড়েছে সুন্দরবনে। কয়েকদিন ধরে একটি ব্যাঘ্র শাবক ও বাঘিনীকে দেখা যাচ্ছে জঙ্গলে ঘোরাঘুরি করতে। মূলত সুন্দরবনের দোবাঁকির জঙ্গলের কাছে বাঘিনী কে প্রথম লক্ষ্য করা যায় মার্চ মাসের ৭ তারিখে। তারপর পুনরায় দেখা যায় বৃহস্পতিবার। বাঘিনীর ও ব্যাঘ্র শাবকের বারবার দোবাঁকির জঙ্গলের কাছে দেখতে পাওয়ায় যথেষ্ট উৎসুক পর্যটকরা। তবে লাজুক ব্যাঘ্র শাবক পর্যটকদের ভুটভুটির আওয়াজ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ঢুকে পড়ছে জঙ্গলের মধ্যে। শুধু তাই নয় নদীর পাড়ে আসতেও ইতস্তত বোধ করছে প্রতিটা মুহূর্তে। বাঘিনীর আচরণ অবশ্য তেমন নয়। বাঘিনী প্রতিটা মুহূর্তে ব্যাঘ্র শাবককে নিয়ে নদীতে নামার চেষ্টা করছে। হেতাল ঝোঁপের মধ্যে বাঘিনী ও তার শাবকের এই আচরণ লক্ষণ করেছেন বেশ কিছু পর্যটকরা।কলকাতা থেকে যাওয়া সাতজনের একটি পর্যটকের দল প্রথমে তা উপলব্ধি করেন। পরে অবশ্য সেই খবর বনদপ্তরকে জানালে বনদপ্তরের কর্মী  শাবকটিকে দেখতে পায়। শুধু ব্যাঘ্র শাবক ও বাঘিনী কে দেখেছেন তাই নয়। তাদের জন্য যথারীতি পাহারার আরো ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ যাতে তাদেরকে কোনভাবেই পর্যটক বা মৎস্যজীবীদের দল বন্য আচরণের ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে তার জন্য নজরদারির ব্যবস্থা। বলে জানান ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক আধিকারিক। 
পর্যটন টিমের সদস্য কৃষ্ণ কুমার মন্ডল বলেন, বাঘিনীর প্রায় এক বছরের বাচ্চা নিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে তাদেরকে খুব একটা যে জঙ্গলের বাইরে দেখা যাচ্ছে এমন নয়। ভাগ্য ভালো থাকলে তবেই মিলছে তাদের দেখা। তবে বাচ্চাটি সাঁতার দেওয়া শিখে গেছে। আমাদের টুরিস্ট বোটে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর এবং ঘোরাঘুরি করে তবেই অল্প সময়ের জন্য তাদের দেখা পায়।। তবে ক্যামেরাবন্দি করার আগেই আবার জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ে। 
সুন্দরবনের বাঘের দর্শন নতুন নয়। প্রায় নিয়ম করেই পর্যটকরা বাঘ দেখতে পান সুন্দরবনে। ইতিমধ্যেই বাঘের সংখ্যা ও পরিসংখ্যান জানতে বসানো হয়েছে ক্যামেরা। তার ছবিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মনে করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই প্রকাশ পাবে সুন্দরবনের প্রকৃত বাঘের সংখ্যা। আর তার মধ্যে বাঘিনী আর ব্যাঘ্র শাবকের দর্শন যা আকর্ষণ বাড়িয়েছে সুন্দরবনের।