৪০০ বছরের বালির কল্যাণেশ্বর মন্দিরে এলেন বেলুড় মঠের প্রেসিডেন্ট

৪০০ বছরের বালির কল্যাণেশ্বর মন্দিরে এলেন বেলুড় মঠের প্রেসিডেন্ট

সুমন আদক, হাওড়া: মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বালির কল্যাণেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। প্রায় ৪০০ বছরেরও প্রাচীন ইতিহাস বহনকারী বালির এই কল্যাণেশ্বর বাবার মন্দির বালির কল্যাণেশ্বরতলায়। রবিবার সকালে কল্যাণেশ্বর শিবমন্দিরে শিবরাত্রিতে পুজো দেন বেলুড় মঠের প্রেসিডেন্ট মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য সন্ন্যাসীরাও। কথিত আছে, ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন যে এই কল্যাণেশ্বর শিবলিঙ্গ জ্যান্ত শিবেরই এক প্রতীক। বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষও সেই রীতি মেনে চলেন। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দজি মহারাজ সহ মঠের বহু সন্ন্যাসীরাও শিবরাত্রিতে শিবের আরাধনা করেন এখানে। এদিন বালির কল্যাণেশ্বর মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন বালির বিধায়ক ডাঃ রানা চ্যাটার্জি, প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি প্রবীর রায়চৌধুরী, পল্টু বণিক সহ অন্যান্যরা। কথিত আছে, প্রায় কয়েকশো বছর পূর্বে এখানে গভীর বন ছিল। এখানে একটি শিবলিঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। পরে সেখানকার মানুষ সেই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব এখানে এসে পুজো করেছিলেন। ১২৪৩ সালে এখানে বড় ঝড় হয়েছিল। সেই সময় এখানে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এই মন্দির নতুন করে প্রতিষ্ঠার সময় স্বামী বিবেকানন্দ এখানে এসেছিলেন। ১৯১৫ সালে ব্রহ্মানন্দ মহারাজ দক্ষিণেশ্বর থেকে কয়েকজন শিষ্যকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসে পুজো দিয়েছিলেন। এদিকে, এদিন কল্যাণেশ্বর মন্দিরে পুজো দেন রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যান পালন দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ রায়ও। সঙ্গে ছিলেন হাওড়া জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি কৈলাশ মিশ্র। অরূপ রায় বলেন, 'আমি প্রতি বছরেই শিবরাত্রির দিন বালির কল্যাণেশ্বর মন্দিরে আসি। বাবার আশীর্বাদ নিয়ে যাই। এখানকার বাবা ভোলানাথকে জ্যান্ত শিব বলেছিলেন স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব। বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীরা এই মন্দিরকে 'জ্যান্ত শিবের মন্দির' বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। বাবার কাছে প্রার্থনা সকলে ভালো থাকুক। সকলের মনস্কামনা পূর্ণ হোক। মিথ্যার পরাজয়ে সত্যের জয় হোক এটাই কামনা।'