চপ-মুড়ি বিক্রি থেকে ১০০ কোটির সম্পত্তি! শান্তিনিকেতনের রাম সাউকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

চপ-মুড়ি বিক্রি থেকে ১০০ কোটির সম্পত্তি! শান্তিনিকেতনের রাম সাউকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বিশাল দাস,বীরভূম, শান্তিনিকেতন:  শান্তিনিকেতনের শ্যামবাটির রাস্তায় একদিন যিনি চপ-মুড়ি ও সবজি বিক্রি করতেন, আজ তিনি  আনুমানিক ১০০ কোটি টাকার অগাধ সম্পত্তির মালিক! শান্তিনিকেতনের ‘রাম শ্যাম রিসোর্ট’-এর কর্ণধার রাম সাউ ও তার ভাই শ্যাম সাউয়ের এই অবিশ্বাস্য উত্থান নিয়ে এখন তোলপাড় পুরো এলাকা। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো দাদাগিরিতে হাজির হয়ে রাম সাউ নিজে মুখে ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি থাকার কথা স্বীকার করতেই জোরালো হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয়দের প্রশ্ন, চপ-সবজি আর কাপড়ের ব্যবসা করে কি কোনোভাবে এত অল্প সময়ে ১০০ কোটি টাকা উপার্জন করা সম্ভব? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো অবৈধ ও বেআইনি কারবার? বিরোধী রাজনৈতিক দলের দাবি, রাম সাউয়ের এই আকাশচুম্বী সম্পত্তির মূল রহস্য হলো গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় এই টাকার মূল উৎস। ‌বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত এই রাম সাউ। এতদিন ধরে বোলপুর তৃণমূল কার্যালয়ে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আর সেই ‘রাজনৈতিক জাদু’-র বলেই সোনাঝুরি খোয়াই হাটের রিসোর্ট, গোয়ালপাড়ার ভিলেজ রিসোর্ট থেকে শুরু করে একে একে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসা।

সিপিআইএম নেতা গৌতম ঘোষ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, যেখানে বিশ্বজুড়ে বড় বড় শিল্পপতিরা মন্দার মুখে পড়ছেন, সেখানে চপ-মুড়ি বেচে ১০০ কোটির মালিক হওয়া একমাত্র দুর্নীতির পথেই সম্ভব। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের লুট ও দুর্নীতির কালো টাকাই কি তবে রামের ব্যবসার আড়ালে সাদা করা হয়েছে—এই প্রশ্ন তুলছে বিজেপি ও সিপিআই(এম)। তৃণমূলের সঙ্গে রামের সন্দেহজনক আর্থিক যোগসাজশ থাকলে বা অধিকাংশ বিষয় যদি অবৈধ উপার্জন থেকে হয়, তাহলে তার সত্যতা প্রকাশ্যে আনতে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি।