সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং - সাক্ষাৎ মৃত্যু ছিল নিশ্চিত। বরাতজোরে চিকিৎসক ও এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে নতুন জীবন ফিরে পেল যুবক।
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত কুলতলি থানার অন্তর্গত জালবেড়িয়া ২ পঞ্চায়েতের কাওরাখালি গ্রাম। গ্রামের কৃষক পরিবারের যুবক রফিক মোল্লা। খরা ধান চাষ করেছিলেন। গত ১৩ মার্চ দুপুর নাগাদ মাঠে গিয়েছিলেন ক্ষেতে জল দেওয়ার জন্য। সেখানে তার বাম পায়ে বিশালাকৃতির এক কেউটে সাপ কামড় দেয়।মাঠ থেকে দৌড়ে বাড়ি ফিরে আসে। তড়িঘড়ি স্থানীয় এক ওঝা-গুণীনের বাড়িতে হাজীর হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ চলে ঝাঁড়ফুঁক,জলপোড়া,তেলপোড়া। ইতিমধ্যে মৃত্যুর মুখে ঢোলে পড়ে ওই যুবক। অচৈতন্য হয়ে পড়ে।পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে পরিবারের লোকজন সর্প বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সমরেন্দ্র নাথ রায় ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হিল’এর সাথে যোগাযোগ করেন। তাঁদের সাহায্যে স্থানীয় জয়নগর-কুলতলি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাপে কামড়ানো এভিএএস দেন চিকিৎসকরা। তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজন হয়। চিকিৎসকরা ক্যানিং মহকুমাট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। দীর্ঘ প্রায় একসপ্তাহ পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় ওই যুবক।এরপর আবারও ক্ষতস্থান ফুলতে থাকে। ডাঃ রায় ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দ্বারস্থ হয় ওই যুবক। সোমবার দুপুরে কুলতলি থেকে ঘুটিয়ারীশরীফ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাঃ রায়ের কাছে হাজীর হয়। হাজীর হয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য জয়ন্ত চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা।শুরু হয় চিকিৎসা। বর্তমানে আক্রান্ত যুবক সুস্থ হওয়ার পথে।
ঘটনা প্রসঙ্গে আক্রান্ত রফিক মোল্লা জানিয়েছে,‘সাপে কামড় দেওয়ার পর কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। গুণীনের কাছে গিয়েছিলাম। মৃত্যু ছিল নিশ্চিত। ভাগ্যের পরিহাস,চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হিল এর সাথে যোগাযোগ করতে পেরে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। তাঁদের কে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ঘটনা প্রসঙ্গে ডাঃ রায় জানিয়েছেন, ‘কেউটের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছিল যুবক। প্রথমে ওঝা গুণীন করে সময় নষ্ট করে। সেক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে। পরে আমাদের সাথে যোগাযোগ করায় শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিষেবা।সাপের কামড়ে মৃত্যু পথযাত্রী যুবককে বাঁচাতে পেরে ভালো লাগছে।’
অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য জয়ন্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘আমরা সাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে চলেছি। কুলতলিতে ও আমরা সচেতনতার প্রচার করেছি।কুলতলি থেকে আক্রান্তের পরিবারের লোকজন বিমর্ষ হয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। আমরা চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই যুবককে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরে খুব খুশি।সাপ নিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয়,কিংবা ওঝা গুণীনের দ্বারস্থ না হয় সে বিষয়ে আগামী দিনেও সচেতনতার বার্তা প্রতিটি গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাব।’