দাঁইহাট পুরসভার আবর্জনা সংগ্রহের দু’টি অত্যাধুনিক গাড়ি অবহেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে

দাঁইহাট পুরসভার আবর্জনা সংগ্রহের দু’টি অত্যাধুনিক গাড়ি অবহেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে

দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: শহরের নিত্যদিনের যাবতীয় আবর্জনা যথাযথভাবে সংগ্রহের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে পুরসভাকে দু’টি অত্যাধুনিক গাড়ি দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু, পুরসভা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অবহেলার কারণে বহুমূল্যের সেই গাড়ি দু্’টি দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মহীন হয়ে রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নীচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।কমবেশি ষাট লক্ষ টাকা মূল্যের এই সরকারি সম্পত্তির প্রতি অবহেলার এমনতর দৃশ্য দেখা গেল পূ্র্ব বর্ধমান জেলার দাঁইহাট পুরশহরে।দাঁইহাট পুরসভা কর্তৃপক্ষের সাফাই, বর্তমানে শহরের অনেক রাস্তায় এই গাড়ি প্রবেশের মতো পরিস্থিতি নেই।ফলে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য ছোটো ছোটো গাড়ির ওপরে প্রধানত ভরসা করতে হয়।তাছাড়া পুরসভার পর্যাপ্ত জায়গার অভাব থাকায় ওই গাড়ি দু্’টিকে ঠিকঠাকভাবে রাখাও সম্ভব হচ্ছে না।একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর নানাবিধ প্রকল্পের সূচনা করেছে।প্রতিটি শহরকে দূষণমুক্ত করে তোলার জন্যও একাধিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।তেমনই একটি প্রকল্প ‘মিশন নির্মল বাংলা’।এই প্রকল্পে প্রতিটি শহরের নিত্যদিনের নোংরা-আবর্জনা সংগ্রহ করে তা যথাযথভাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করে তোলার পরিকল্পনা।এজন্য রাজ্যের প্রতিটি পুরসভাকে বহু লক্ষ টাকা মূল্যের একাধিক অত্যাধুনিক গাড়ি দেওয়া হয়েছে।১৪টি ওয়ার্ডবিশিষ্ট দাঁইহাট পুরসভাও এমনই দু’টি গাড়ি পেলেও দূর্ভাগ্যবশত সেগুলির বর্তমানে করুণদশা।গাড়িগুলি দাঁইহাট পুরভবনের সামনের দু’টি রাস্তার ধারে দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে রয়েছে।সেগুলির চাকা যে বহুকাল গড়ায়নি তা দেখলেই মালুম হয়।গাড়িগুলি ধুলোবালির পুরু আস্তরণে ঢাকা পড়েছে।সেগুলির একাধিক যন্ত্রাংশ সহ সরঞ্জাম রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে চূড়ান্তভাবে ক্ষতির সম্মুখীন।লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক এই গাড়িগুলিকে চোখের সামনে এভাবে পড়ে থেকে নষ্ট হতে দেখে শহরবাসীর একাংশ পুরকর্তৃপক্ষের সমালোচনায় সরব হয়েছেন।তাঁদের অভিযোগ, দাঁইহাট পুরসভা কর্তৃপক্ষ অত্যাধুনিক দু’টি গাড়ি আবর্জনা সংগ্রহের কাজে আর ব্যবহার করছে না।এমনকি, গাড়িগুলির যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণের ব্যাপারেও পুরসভা সম্পূর্ণ উদাসীন।ফলে রাস্তার ধারে অবহেলায় পড়ে থাকা বহুমূল্যের ওই গাড়িগুলি নষ্ট হচ্ছে।সরকারি সম্পত্তির প্রতি পুরকর্তৃপক্ষের এধরনের উদাসীনতায় শহরবাসী উষ্মা প্রকাশ করেছেন।দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান সমর সাহা এপ্রসঙ্গে বলেন, ওই গাড়িগুলি এইমুহূর্তে যথাযথভাবে রাখার মতো জায়গার অভাব রয়েছে।তাসত্ত্বেও আমরা ভাবছি গাড়িগুলিকে ঠিকমতো রক্ষনাবেক্ষণের পাশাপাশি কীভাবে পুনরায় কাজে লাগানো যায়।