পিলখানায় প্রোমোটার খুনে ধৃত ৩, সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় গ্রেফতার ৬। বৃহস্পতিবার ধৃতদের তোলা হয় হাওড়া আদালতে

পিলখানায় প্রোমোটার খুনে ধৃত ৩, সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় গ্রেফতার ৬। বৃহস্পতিবার ধৃতদের তোলা হয় হাওড়া আদালতে

সুমন আদক, হাওড়া: বুধবার ভোরে হাওড়ার পিলখানায় গুলি-কাণ্ডে প্রোমোটার খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে গোলাবাড়ি থানা, হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও রাজ্য পুলিশের এসটিএফ একসঙ্গে অভিযান চালিয়ে কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকার একটি গোপন ডেরা থেকে এদের গ্রেফতার করে। ধৃতেরা হল মহঃ বিলাল, মহঃ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন। বিলালের বাড়ি কলকাতার জোড়াসাঁকো থানার কলাবাগান এলাকায়। বাকি দুজন বহুবাজার এলাকার বাসিন্দা।এই তিনজনই হারুন খান এবং রোহিতকে ঘটনার পর পালাতে সাহায্য করেছিলেন এবং তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এদের হাওড়া আদালতে তোলা হলে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়। বুধবারের ঘটনার পর হাওড়া সিটি পুলিশ হাওড়া এবং কলকাতার বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায়। তবে, মূল অভিযুক্তরা এখনও পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, গোলাবাড়ির পিলখানায় শ্যুট আউটের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি এই ঘটনার খবর সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক নিগ্রহ-কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন আরও ৬ জন। জানা গেছে, গোলাবাড়ি থানা মামলা নং ৫৯/২৬ তারিখ ২৫/০২/২৬ ধারা ১০৩(১)/২৩৮(ক)/৩(৫) বিএনএস এবং ২৫/২৭ অস্ত্র আইন (হত্যা মামলা) ধারায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর পাশাপাশি গোলাবাড়ি থানার মামলা নং ৬০/২৬ তারিখ সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ২৫/০২/২৬ ধারা ১২৬(২)/১১৭(২)১০৯/৩২৪(৪)/৩৫১(২)/৩(৫) বিএনএস ধারায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ধৃত ৬ জনকে এদিন আদালতে তোলা হলে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, প্রোমোটার খুনের ঘটনায় ধৃতদের এদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া। হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরে এসে অভিযুক্ত তিনজনকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি। এরপর এদের আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া বলেন, 'আমরা এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছি যারা খুনের ঘটনার পূর্বে এবং ঘটনার পরবর্তীতে অভিযুক্তদের সাহায্য করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ধৃত তিনজন এই খুনের ঘটনার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমরা এই ঘটনার মূল অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করতে পারব। এই ঘটনায় ধৃতেরা প্রত্যক্ষভাবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা তা এখনই তদন্তের স্বার্থে আমরা বলবো না। ধৃত তিনজনকেই আমরা নিজেদের হেফাজতে নেব। খুনের ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তারা বাইরে চলে যেতে পারে কিনা তা এখনই মিডিয়ার সামনে আমরা জানাতে চাই না। পিলখানার সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে শান্তিপূর্ণ রয়েছে।'