মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কেন্দ্রই এবারের নির্বাচনে জেলা বিজেপির ‘পাখির চোখ’
মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কেন্দ্রই এবারের নির্বাচনে জেলা বিজেপির ‘পাখির চোখ’দেবাশিস রায়, পূর্ব বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কেন্দ্রটিই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জেলা বিজেপির ‘পাখির চোখ’।রাজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বিধানসভা নির্বাচনী ক্ষেত্রে(পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার আয়োজনকে ঘিরেই বিভিন্ন মহলে এমনতর ‘চর্চা’ শুরু হয়েছে।যদিও বিজেপির সাংগঠনিক কাটোয়া জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব এমনতর ‘চর্চা’য় গা ভাসাতে না চাইলেও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা যে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বিভিন্ন এলাকায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকছেন সেটা কিন্তু দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।জেলা বিজেপির সভাপতি স্মৃতিকণা বসু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা এবারের নির্বাচনে নিঃসন্দেহে আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।জেলার সর্বত্রই বিজেপি যথেষ্ট ভালো ফল তো করবেই এবং আমরা জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে পূ্র্ব বর্ধমান জেলায় আগামী ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ করা হবে।নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল রাজনৈতিক দলগুলিও নানাভাবে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।তবে, ৮ এপ্রিল বিদায়ী মন্ত্রীদ্বয় স্বপন দেবনাথ এবং সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য প্রার্থীরা জেলার সর্বত্র যেভাবে উৎসবের মেজাজে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন তা আমজনতার নজর কেড়ে নিয়েছে।যদিও মনোনয়নপত্র দাখিলের অনেক আগে থেকেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ভোটপ্রচারে অন্যান্যদের তুলনায় বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে।ইতিমধ্যেই দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে রায়না কেন্দ্রের শ্যামসুন্দর কলেজ ময়দানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রের সমুদ্রগড় হাইস্কুল ফুটবল ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেগা জনসভা করে গিয়েছেন।এছাড়াও সাংসদ-অভিনেতা দেব(দীপক অধিকারী), সাংসদ-অভিনেত্রী জুন মালিয়া সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রচার করেছেন।স্বাভাবিকভাবেই প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার নজর কাড়ছে জেলাবাসীর এবং বিজেপিও পাল্টা প্রচার বৃদ্ধিতে জোর দিতে শুরু করে।বিশেষ করে ৬ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার পরপরই এই পূ্র্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রেই ১১ এপ্রিল শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার ঘোষণা করে দেয় জেলা(সাংগঠনিক কাটোয়া) বিজেপি।পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের সিমলন-মছলন্দপুরে এই মেগা জনসভার আয়োজনের পর থেকেই জেলাজুড়ে বিভিন্ন মহলে ‘চর্চা’ শুরু হয়ে গিয়েছে।এই এলাকারই ভূমিপুত্র রূপে স্বপন দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক স্বপন দেবনাথ একেবারে মাটির কাছাকাছি থেকে রাজনীতি করেন।যেকারণে তাঁর প্রতি যে জনসমর্থন অটুট রয়েছে সেটা এলাকায় বিভিন্ন মহলে কান পাতলেই বোঝা যায়।এমন একজন জনপ্রতিনিধি তথা জননেতা যে বিরোধীদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট এবং সেটা ভালোমতো উপলব্ধি করতে পেরেই এবারে বিজেপি কার্যত ‘আদাজল’ খেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে।যদিও এই এলাকার অনেক জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় বিজেপি সাংগঠনিকভাবে বেশ দুর্বল বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।সেই দলীয় সাংগঠনিক দুর্বলতার ডিভিডেন্ড পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।যেকারণে এবারেও তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী স্বপন দেবনাথের নানাবিধ প্রচার কর্মসূচি থেকে শুরু করে মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় কর্মী-সমর্থক সহ জনতার ঢল দেখা গেল।তবে, এবারে প্রধানমন্ত্রীর মেগা জনসভার আয়োজনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে গেরুয়া শিবিরের বিপুল উৎসাহ, উন্মাদনা যদি ইভিএমে প্রতিফলিত হয় তাহলে সেটা কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের মাথাব্যথা বাড়িয়েও দিতে পারে।ছবি: সিমলন-মছলন্দপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার প্রস্তুতি বিজেপির এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের পথে বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।
admin