মায়ের পুজোয় মিলে গেল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, বেলুড়ে বি কে পালের পূজামণ্ডপে অ্যালভিটো-ব্যারেটো

মায়ের পুজোয় মিলে গেল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, বেলুড়ে বি কে পালের পূজামণ্ডপে অ্যালভিটো-ব্যারেটো

সুমন আদক, হাওড়া: বাঙালির দুর্গাপুজো আর ফুটবল—এই দুই আবেগকে আলাদা করা যায় না। একদিকে লাল-হলুদ, অন্যদিকে সবুজ-মেরুন। মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর ডার্বির লড়াই ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়তেই থাকে কয়েক গুণ। কিন্তু মায়ের মণ্ডপে এসে সেই চেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই যেন বদলে গেল সম্প্রীতির উৎসবে। এক মঞ্চে মিলিত হলেন ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের দুই প্রাক্তন তারকা ফুটবলার। হাওড়ার বেলুড়ে ৬৭তম বর্ষে পদার্পণ করল বি কে পাল সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো। আর সেই পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই হয়ে উঠল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। মায়ের আবাহনের মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা অ্যালভিটো ডি'কুনহা এবং মোহনবাগানের প্রাক্তন তারকা হোসে রামিরেজ ব্যারেটো। দুই প্রধানের দুই প্রাক্তন তারকাকে একই মঞ্চে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসে ভাসলেন উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরা। বাংলার ফুটবল ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান মানেই এক চিরন্তন আবেগ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দুই দলের সমর্থকদের ভালোবাসা, গর্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাঙালির ক্রীড়াসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাঠে দুই দলের লড়াই যতই তীব্র হোক, উৎসবের আবহে যে সেই বিভাজন মুছে গিয়ে মিলনের বার্তা দেওয়া সম্ভব, বেলুড়ের বি কে পাল সার্বজনীনের মঞ্চে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেল। অ্যালভিটো ও ব্যারেটো—দু’জনেই নিজেদের ফুটবল দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার মাধ্যমে অসংখ্য সমর্থকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁদের একসঙ্গে উপস্থিতি তাই নিছক পুজো উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের এক বিশেষ মুহূর্ত। ৬৭ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে বি কে পাল সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এবারের উদ্বোধন তাই অন্য মাত্রা পেল। দেবীর আরাধনার মঞ্চে ফুটবল সংস্কৃতির দুই পরিচিত মুখের উপস্থিতি প্রমাণ করল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে মাঠে, কিন্তু উৎসবের আনন্দে সবাই এক। মায়ের আগমনী সুরে তাই বেলুড়ে এদিন যেন একসঙ্গে ধ্বনিত হল লাল-হলুদ ও সবুজ-মেরুনের আবেগ। দুর্গাপুজোর আনন্দ, ফুটবলের নস্টালজিয়া আর দুই শিবিরের তারকাদের মিলন—সব মিলিয়ে বি কে পাল সার্বজনীনের ৬৭তম বর্ষের উদ্বোধন হয়ে উঠল এক স্মরণীয় মুহূর্ত।