সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি শিবিরে ধাক্কা
নামখানা:বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। বিজেপি শিবিরে ধাক্কা দিয়ে কয়েক হাজার কর্মী ও সমর্থক দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে এবং রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।নামখানা ব্লকের সাতমাইল এলাকায় এই যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানেই বিজেপি ছেড়ে আসা কর্মী-সমর্থকদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার। উপস্থিত ছিলেন সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা এবং তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব।এই ব্যাপক যোগদান কর্মসূচিকে ঘিরে কার্যত শক্তি প্রদর্শনের ছবি দেখা যায় তৃণমূল শিবিরে। কর্মসূচিতে উপস্থিত জনতার ভিড় এবং কর্মীদের উৎসাহ স্পষ্ট করে দেয় যে, নির্বাচনের আগে তৃণমূল নিজেদের সংগঠন আরও মজবুত করতে মরিয়া। অন্যদিকে বিজেপির জন্য এই ভাঙন বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ বাপি হালদার বলেন, “ভোট ঘোষণার সঙ্গেই এই চিত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ বিজেপির উপর থেকে ভরসা হারাচ্ছে। আমরা সকলের জন্য দরজা খুলে দিয়েছি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে কাজ করার মতো কর্মী খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।অন্যদিকে, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করা এক কর্মী জানান, “বিজেপিতে থেকে মানুষের জন্য কাজ করার কোনও সুযোগ নেই। শুধু ভোটের সময় নেতাদের দেখা যায়, তারপর আর তাদের খোঁজ মেলে না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের পাশে থাকে, তাদের জন্য কাজ করে। সেই কারণেই আমরা আজ তৃণমূলে যোগদান করেছি।”এই ঘটনার পর সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ যে অনেকটাই বদলাতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। নির্বাচনের আগে এই ধরনের দলবদল এবং কর্মী ভাঙন যে ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।এখন দেখার বিষয়, এই ভাঙনের জেরে বিজেপি কীভাবে নিজেদের সংগঠনকে পুনর্গঠন করে এবং তৃণমূল এই সুযোগকে কতটা কাজে লাগাতে পারে। তবে আপাতত সাগরের রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধির ছবিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
admin