সাগরের সংবর্ধিত ‘কোবরা’! হাসি মুখ বিষাদে ভারাক্রান্ত,সাগরে সমাপ্তি

সাগরের সংবর্ধিত ‘কোবরা’! হাসি মুখ বিষাদে ভারাক্রান্ত,সাগরে সমাপ্তি
সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং; তাঁকে কোবরা অর্থাৎ কেউটে প্রজাতির সাপের সাথে তুলনা করে বিদায় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করলেন সতীর্থ সঙ্গীসাথীরা।ঘটনাস্থল পূণ্যভূমি গঙ্গা সাগরতীর্থ। হাসি মুখ!কিন্তু  বিষাদে ভারাক্রান্ত।আর এই ভাবে সাগর সঙ্গমে সমাপ্তি ঘটলো দীর্ঘ কয়েক যুগের।বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত,চাকরি জীবনের অন্তিম লগ্নের শেষ মুহূর্ত। আর সেই অন্তিম লগ্নে পূণ্যভূমি সাগর তীর্থে ‘কোবরা’ হিসাবে সতীর্থদের কাছে ‘বিদায় সংবর্ধনা’ পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন সাগরে কর্তব্যরত ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক ডাঃ সমরেন্দ্র নাথ রায়।
উল্লেখ্য চাকরি জীবনে বহুবার সাগর তীর্থে সাধারণ পূণ্যার্থীদের পরিষেবা দিয়েছিলেন।জীবনে হাজার হাজার সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। ২০২৬ এর গঙ্গাসাগর মেলায় তাঁর চাকরি জীবনের শেষ পরিষেবা ছিল।লট নম্বর আট অস্থায়ী হাসপাতালে এমন ঘটনা জানাজানি হতেই,ডাঃ সমরেন্দ্র নাথ রায় কে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেন উপস্থিত সতীর্থরা। সংবর্ধনার পাশাপাশি ডাঃ রায় কে ‘কোবরা’  নামে ভূষিত করেন তাঁরই সতীর্থরা।সরকারি চিকিৎসক হিসাবে চাকরি জীবনের শেষ মুহূর্তে সাগরতীর্থে এমন অভিনব সংবর্ধনা পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ডাঃ রায়।এদিন অপর এক সরকারী কর্মচারী হাফিজ উদ্দিন মোল্লাকে ও বিদায় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। 
এমন এক বিরল মুহূর্ত উপভোগ করে ডাঃ রায় কবি জীবনানন্দ দাশ এঁর কবিতা উদ্ধৃতি করে জানিয়েছেন, “আবার আসিব ফিরে,ধান সিঁড়ি নদীতীরে - এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় -হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে ;”। সাধারণ মানুষের পরিষেবা দিতে আবারও সাগরে আসবো,তবে সরকারী চিকিৎসক হিসাবে এটাই আমার শেষ সাগরতীর্থ।’
বৃহষ্পতিবার রাতে মকর সংক্রান্তির পূণ্য সময় সাগরতীর্থে লট নম্বর ৮ এ এমন অভিনব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারীক ৩ ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্যজেলা ডাঃ শ্যামল হালদার, অস্থায়ী হাসপাতালের সুপার ডাঃ হীরক রায়,পয়েন্ট ইনচার্জ ডাঃ তাপস মন্ডল,অতিরিক্ত পয়েন্ট ইনচার্জ ডাঃ মাসুদ আলম,অনাথবন্ধু পাইক,মানস মিস্ত্রী সহ অন্যান্যরা।