সিপিএম নেতা অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে এবার বিজেপির মঞ্চে
মলয় সুর , চুঁচুড়া, আরামবাগ লোকসভা নির্বাচনে ২০০৪ এ তৎকালীন হুগলির দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা অনিল বসু আরামবাগ থেকে প্রায় ৬ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে নয়া রেকর্ড গড়েছিলেন। যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সেই প্রয়াত অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে এবার দেখা গেল বিজেপির মঞ্চে। সোমবার চুঁচুড়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সভায় হাজির থাকার পাশাপাশি তাঁর মুখ থেকে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগানও শুনতে পাওয়া গেল। এই ঘটনায় অনেকেই বিস্মিত হলেও তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি— "সেই সিপিএম আর নেই, তাই বিজেপি করছি।" তাঁর ব্যাখ্যা, "শ্রদ্ধেয় কমরেড জ্যোতি বসু, অনিল বিশ্বাস, সুভাষ চক্রবর্তীদের বামপন্থা আর এখানকার বামপন্থায় অনেক ফারাক। ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমিও সক্রিয়ভাবে বাম রাজনীতি করেছি। আগে বামপন্থা ছিল গরিব, মেহনতি, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। এখনকার বামপন্থা হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণির ঝকঝকে এলিটদের প্রতিনিধি।" কিন্তু সিপিএম ছেড়ে হঠাৎ বিজেপিতে কেন? তাঁর জবাব, "বিজেপি দেশভক্ত দল, সেইটাই আমাকে আকর্ষণ করে।" ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে তাঁর প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। ২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করায় অনিল বসুকে সিপিএম দল থেকে বহিষ্কার করে। তারপরেও অবশ্য সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অনিলের। হুগলি জেলায় সিপিএমের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ও অনিলকে সাধারণ দর্শকের ভূমিকায় দেখা যেত। সাসপেন্ড থাকা অবস্থায় প্রয়াত সিপিএমের জেলা সম্পাদক বিনোদ দাসের মরদেহ মাল্যদান দিতে জেলা পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন। ২০১৮-এর ২রা অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখেন। সৌম্য কলেজে পড়ার সময় এসএফআই করতেন। পরে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই করেছেন। এদিন পাঁচজন বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন উপলক্ষে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে একটি সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে দেখে বিজেপি কর্মী সমর্থকরাও হকচকিয়ে যান। পরে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগের সঙ্গে হাত মেলান।
admin