কাজে টানা চার দিন অনুপস্থিত, বাড়িতে খোঁজ করতেই রক্তাক্ত অবস্থায় পরিচারিকার দেহ

কাজে টানা চার দিন অনুপস্থিত, বাড়িতে খোঁজ করতেই রক্তাক্ত অবস্থায় পরিচারিকার দেহ

বিশাল দাস, বীরভূম, বোলপুর  : বোলপুর পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সুড়িপাড়ায় এক পরিচারিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। টানা চার দিন কাজে অনুপস্থিত থাকার পর বাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতার নাম রাশু হাজরা (প্রায় ৫৫)। তিনি শান্তিনিকেতন এলাকার একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো নির্দিষ্ট সময়ে কাজে না যাওয়ায় প্রথমে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একদিন-দুদিন নয়, টানা চার দিন রাশু হাজরার কোনও খোঁজ না পাওয়ায় পরিচিতদের মধ্যে সন্দেহ বাড়তে থাকে। এরপর তাঁর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা যায়, পাশের বাড়ির বাসিন্দা মিনা ভান্ডারীকে রাশুর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়। তিনি বাড়ির সামনে পৌঁছে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায় তাঁর সন্দেহ হয়। পরে বাড়ির ভিতরে ঢুকে রাশু হাজরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধও বের হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই সুড়িপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর দেওয়া হয় বোলপুর থানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

রাশু হাজরার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়েই এখন একাধিক প্রশ্ন উঠছে। এটি অসুস্থতাজনিত বা স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃতদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে কোনও অপরাধমূলক যোগ রয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টানা চার দিন ধরে কাজে না যাওয়া, বাড়ির ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এলাকায়। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।