সুমন আদক, হাওড়া: "গরিব হকারদের হটিয়ে আম্বানি, আদানি সহ বড় বড় শিল্পপতিদের এখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে বিজেপি। গরীবি হটাতে ওরা চায়না বরং ওরা চায় গরীব মানুষকেই হটিয়ে দিতে হবে"। মন্তব্য সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধরের। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাওড়ার বাঁকড়া বাজারে দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনে এসে পাশাপাশি তিনি বলেন, বিজেপি সরকার বড়লোকের সরকার। তারা গরিব হকারদের হটিয়ে আম্বানি, আদানি সহ বড় বড় শিল্পপতিদের এখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে এসেছিল সেই প্রতিশ্রুতিও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পূরণ হয়নি। সেটা মানুষ বুঝতে পারছেন। আগামী দিন মানুষ ভোট বাক্সেই এর জবাব দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীপ্সিতা আরও বলেন, "কারও বদান্যতায় বা কারও দয়ায় এই পার্টি অফিস খোলা হয়নি। এখানকার মানুষজন তাঁদের নিজেদের সাহসে ভর করে এটা খুলেছেন। তৃণমূলের যারা গুন্ডামি করতেন, যাদের গুন্ডামির জন্য সন্ত্রাসের জন্য এই সমস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষ নিজের কাজ করতে পারতেন না তাঁরা আজকে সব হাওয়া হয়ে গেছেন। কেউ ডিমের ভয়ে বেরচ্ছেন না, কেউ জেলে যাওয়ার ভয়ে বেরচ্ছেন না। এখানকার যিনি তৃণমূল বিধায়ক, তিনি আমারও বিধায়ক। কিন্তু, জেতার পর এখনও অবধি আমি তাঁর শ্রীমুখ দেখতে পাইনি। তাঁর তো কথা ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার। এই এলাকার মানুষ তো বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার জন্যই তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। এখন একটার পর একটা জিনিস বিজেপির সরকার প্রবর্তন করছেন। অথচ এখানের বিধায়ককে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা তো বলেইছিলাম যে এই সরকারটা আসলে আদানি-আম্বানির সরকার। বড়লোকের সরকার। বিজেপি চায় না গরীব মানুষ বেঁচে থাকুক। গরীবি হটাতে হবেনা, ওরা চায় গরীব মানুষকে হাটিয়ে দিতে হবে। গরীব মানুষ যেখানে একটু ব্যবসা করে খাচ্ছিলেন, তাঁরা বলছিলেন যে আমরা ট্যাক্স দেব, আমাদের যদি কোনও ফি দিতে হয় লাইসেন্সের জন্য ফি দিতে হয় সব আমরা দিতে রাজি। কিন্তু সরকার রাজি নয়। ওরা ওখানে গরীব মানুষদের সরিয়ে সেখানে বড় বড় পুঁজিপতি যারা রয়েছেন যেমন কোথাও কেএফসি, কোথাও সেনকো গোল্ড, কোথাও আগরওয়াল, কোথাও হলদিরাম এদেরকে দোকান দেবেন। তাহলে এই গরীব মানুষগুলো যাবে কোথায় ? বিজেপিকে যারা বিশ্বাস করেছিল আমরা জানিনা। আমরা প্রথম দিন থেকেই বলেছি ওরা জুমলা দিতেই ভালোবাসে। মিথ্যে কথা বলতেই ভালোবাসে যেখানে যেখানে ওরা যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দিল্লিতেও বলেছিল মেয়েদের জন্য এতো টাকা করে দেওয়া হবে কিন্তু এখনও অবধি তাঁরা তা পাননি। ফলে তারপরেও যারা বিজেপিকে বিশ্বাস করেছিলেন তাঁরা এখন বুঝুন। বিজেপি যে মিথ্যে কথা বলেছিল নির্বাচনের আগে সেটা আমরা জানতাম। আমরা বারবার প্রচারে সেই কথাই তো বলেছিলাম। এখন মানুষেরই উচিত এই আশা-ভঙ্গগুলো যেন ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়। এটাই তো আমাদের চাওয়া। বাঁকড়ার মানুষকে আমরা বলব ভয় পাওয়ার কোনও জায়গা নেই। একদম আপনারা যেভাবে রয়েছেন যেভাবে থাকছেন সেভাবেই থাকবেন। কারও চমকানি, ধমকানি সেটা তৃণমূলেরই হোক অথবা বিজেপিরই হোক তার সামনে মাথা নোয়ানোর কোনও দরকার নেই। আপনাদের সুস্থ থাকা, আপনাদের ভালো থাকা, মাথা উঁচু করে থাকার জন্য লাল ঝান্ডা আপনাদের পাশে ছিল আছে এবং থাকবে।"